নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি ট্রাম্পের 

প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপবাদের অভিযোগে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা করবেন তিনি। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। 

পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস অনেক দিন ধরে আমাকে নিয়ে মিথ্যা বলছে, অপবাদ দিচ্ছে ও কলঙ্ক ছড়াচ্ছে। এতোদিন তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটা এখন শেষ করতে হবে!’

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টাইমস কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করেছিল। তিনি বলেছেন, পত্রিকাটি ‘চরম বামপন্থি ডেমোক্র্যাট পার্টির মুখপত্রে’ পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, মামলাটি ফ্লোরিডায় দায়ের করা হচ্ছে। ফ্লোরিডা রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি পত্রিকাটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকে বিরূপভাবে উপস্থাপন করা বামঘেঁষা সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন তিনি।

পোস্টে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কমলা হ্যারিসকে সমর্থনের বিষয়টি নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রথম পাতার একেবারে মাঝখানে ছাপানো হয়েছিল, যা আগে কখনও দেখা যায়নি!’

তিনি পোস্টে আরও অভিযোগ করেন যে, অন্যান্য সংবাদমাধ্যম ও টিভি প্রোগ্রামগুলোও নথি ও ছবিকে জটিলভাবে বদলে দিয়ে তাকে কলঙ্কিত করছে।

এই প্রথম নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট-এমন নয়।

ট্রাম্প এর আগেও নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ২০২৩ সালে আদালত ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সেই মামলা খারিজ করে দেন। কারণ বিচারকের মতে, মামলার অভিযোগগুলো সাংবিধানিক আইনের দিক থেকে ভিত্তিহীন ছিল। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, নিউইয়র্ক টাইমস এবং তার ভাতিজি মেরি ট্রাম্প মিলে গোপনে তার ট্যাক্স সংক্রান্ত ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করেছিল। ট্রাম্প তখন সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলাটি ট্রাম্প করেছিলেন ২০২১ সালে। এটা ছিল তার ট্যাক্স ও আর্থিক বিষয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিবেদন নিয়ে।

২০২৩ সালে আরেকটি মানহানির মামলাতেও হেরে যান ট্রাম্প। সিএনএনের বিরুদ্ধেও মামলা করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তার অভিযোগ ছিল, সিএনএন তাকে অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছিল। এতে তার মানহানি হয়েছে এবং তিনি তিনি ৪৭৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। কিন্তু আদালত সেই মামলাও খারিজ করে দেয়।