ইরান যুদ্ধে বিপুল ব্যয়: অতিরিক্ত অর্থায়নের পক্ষে তোপের মুখে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে রিপাবলিকানরা সামরিক খাত ও হোয়াইট হাউসের অন্যান্য অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ৯৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন অর্থায়ন প্যাকেজ অনুমোদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে। 

মঙ্গলবার সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে হেগসেথ এই নতুন ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেন। উত্তপ্ত এ শুনানিতে তাকে কড়া প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় এবং তার উদ্বোধনী বক্তব্য চলাকালে একাধিকবার বিক্ষোভকারীরা বাধা দেন।

শুনানির কয়েকদিন আগে পেন্টাগন জানায়, সংঘাতে আরও তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এতে জুলাইয়ের শুরু থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি সেনাসদস্য।

হেগসেথ বলেন, যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন ‘জরুরি ও প্রয়োজনীয়’। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটকে তিনি সামরিক বাহিনীর জন্য ‘এক প্রজন্মে একবারের বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই অর্থ ছাড়া মার্কিন বাহিনী গুরুতর ঘাটতির মুখে পড়বে বলে জানান তিনি।

তবে কমিটিতে শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ‘অন্তহীন যুদ্ধের’ দিকে এগোচ্ছে। মারে বলেন, এই যুদ্ধ আবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ‘একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি এবং যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে’। কিন্তু এখন তিনি আরও ৭০ বিলিয়ন ডলার চাইছেন এবং কেবল তার আশ্বাসের ওপর নির্ভর করতে বলছেন।

শুনানিতে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্সও সাক্ষ্য দেন।

প্রস্তাবিত ৯৫ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজে সামরিক খাতে ৬০ বিলিয়ন ডলার, অন্যান্য জাতীয় নিরাপত্তা চাহিদার জন্য ১২ বিলিয়ন ডলার, কৃষি সহায়তায় ১০ বিলিয়ন ডলার এবং ভোট আইন পরিবর্তনের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

শুনানি শুরুর আগে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে কংগ্রেসকে কোনও ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই অবিলম্বে বাজেট প্রস্তাব অনুমোদনের আহ্বান জানানো হয়েছে।