জানালা পরিষ্কার করা সহজ কাজ মনে হলেও পেশাদার পর্যায়ে এটি দক্ষতার এক কঠিন পরীক্ষা। আর সেই দক্ষতারই বিশ্বমঞ্চ হলো ‘ওয়ার্ল্ড উইন্ডো ক্লিনিং ওয়ার্ল্ড কাপ’, যেখানে গতি ও নিখুঁত পরিচ্ছন্নতার সমন্বয়ে প্রতিযোগিতা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
৭১ বছর বয়সী টেরি বারোজ এখনও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে তিনি বলেন, আমি যা করছি, আমার অর্ধেক বয়সীরাও তা করতে পারে না। এটি এমন কাজ নয়, যা হঠাৎ করেই করা যায়। এর জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হয়।
জানালা পরিষ্কারের জগতে টেরি বারোজকে ‘উসাইন বোল্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০৯ সালে তিনি মাত্র ৯ দশমিক ১৪ সেকেন্ডে ৪৫ বাই ৪৫ ইঞ্চি আকারের তিনটি জানালা নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এখন পর্যন্ত সেই রেকর্ড কেউ স্পর্শ বা ভাঙতে পারেননি।
ওয়ার্ল্ড উইন্ডো ক্লিনিং ওয়ার্ল্ড কাপে প্রতিযোগীদের একটি নির্ধারিত ১২ ইঞ্চি বা ৩০০ মিলিমিটার স্কুইজি, ১৪ ইঞ্চি বা ৩৫০ মিলিমিটার অ্যাপ্লিকেটর (টি-বার), একটি অ্যাপ্লিকেটর কভার, পানিভর্তি একটি বালতি, জানালা পরিষ্কারের ডিটারজেন্ট এবং একটি স্ক্রিম দেওয়া হয়। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাদের যত দ্রুত সম্ভব এবং যত নিখুঁতভাবে সম্ভব তিনটি ৪৫ বাই ৪৫ ইঞ্চি জানালা পরিষ্কার করতে হয়।
তিন বিচারকের তত্ত্বাবধানে প্রতিযোগীরা ‘এস’ আকৃতির হাতের নড়াচড়ায় স্কুইজি চালান। এরপর স্ক্রিম দিয়ে কাচে যেন কোনও দাগ না থাকে, তা নিশ্চিত করেন। কাজ শেষ হলে সময় গণনা থামাতে তাদের ‘স্টপ’ বলে চিৎকার করতে হয়।
এই প্রতিযোগিতায় গতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু দ্রুত শেষ করাই যথেষ্ট নয়। তিনটি জানালার কোথাও দাগ, পানির ফোঁটা বা রেখা থেকে গেলে প্রতিটির জন্য ০ দশমিক ৫ সেকেন্ড করে শাস্তি যোগ হয়। আর মোটা দাগ থেকে গেলে অতিরিক্ত ১ সেকেন্ড শাস্তি দেওয়া হয়। বিচারকেরা সামান্যতম ত্রুটিও খুঁজে বের করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
ওয়ার্ল্ড উইন্ডো ক্লিনিং ওয়ার্ল্ড কাপের বিজয়ী এক হাজার পাউন্ড বা এক হাজার ৩৫০ মার্কিন ডলার অর্থ পুরস্কার পান। তবে আয়োজকদের মতে, প্রকৃত পুরস্কার হলো সহকর্মী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে সেরা হওয়ার গৌরব।
সূত্র: ওডিটি সেন্ট্রাল