আসিয়ানে যোগ দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশের, কারণ জানালেন মহাসচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১৬আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থায় (আসিয়ান) বাংলাদেশ এবং পাপুয়া নিউ গিনির (পিএনজি) সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। জোটটির শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, দেশ দুটি আসিয়ান চার্টারের ভৌগোলিক শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের এই সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউ গিনি দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে আসছে। এমনকি পোর্ট মোর্সবিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রকাশ্যে সমর্থনও দেওয়া হয়েছিল। তবে আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন যে, পূর্ব তিমুরই শেষ দেশ হিসেবে এই জোটে যুক্ত হয়েছে।

ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে কথা বলতে গিয়ে কাও বলেন, আমাদের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর অধ্যায় এখানেই শেষ।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, আসিয়ান চার্টার অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত হিসেবে কেবল ১১টি দেশকে বিবেচনা করা হয়। বিষয়টি এটাই। পাপুয়া নিউ গিনি এবং বাংলাদেশ এই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত।

আসিয়ান চার্টার মূলত জোটটির আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে। এই দলিল অনুযায়ী নতুন সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত নির্দিষ্ট করা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো আবেদনকারী দেশকে ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত’ হতে হবে। ভৌগোলিক বিচারে পাপুয়া নিউ গিনি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত, অন্যদিকে বাংলাদেশ অবস্থান করছে দক্ষিণ এশিয়ায়।

ঢাকা এবং পোর্ট মোর্সবির জন্য আসিয়ানের অংশ হওয়ার একমাত্র উপায় হলো যদি ১০ দেশের এই জোটটি তাদের চার্টার বা সংবিধানে সংশোধন আনে। তবে এই ধরনের যেকোনও সংশোধনের জন্য সব সদস্য দেশের সম্মতির প্রয়োজন হয়।

মহাসচিব কাও স্পষ্ট করে বলেন, যদি না সদস্য দেশগুলো চার্টার সংশোধন করে এবং ভূগোলকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে, তবে তা ছাড়া আমাদের যে ১১টি দেশ রয়েছে, তারা নিয়েই গঠিত থাকবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা আসিয়ান।

২০১১ সাল থেকে চেষ্টা চালানোর পর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে গত বছর আসিয়ানে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত আসন নিশ্চিত করে পূর্ব তিমুর। এই প্রক্রিয়াটি এতটাই দীর্ঘ ছিল যে, পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা রসিকতা করে বলেছিলেন, আসিয়ানের দরজায় প্রবেশের চেয়ে স্বর্গে প্রবেশ করা হয়তো সহজ।

বিগত বছরে মালয়েশিয়া যখন আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে ছিল, তখন তাদের সমর্থন পেতে চেষ্টা চালিয়েছিল ঢাকা। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো পাপুয়া নিউ গিনির সদস্যপদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য ১৯৭৬ সাল থেকে আসিয়ান জোটে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা উপভোগ করে আসছে পাপুয়া নিউ গিনি, যা তাদের জোটের বৈঠকগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়।

সূত্র: জাকার্তা গ্লোব 

/এএস/ 
সম্পর্কিত
জিরো এফআইআর কী, কখন ও কোথায় দায়ের করা যায়
গালিগালাজ সত্ত্বেও মোদির ক্ষমা: ‘আজ আমার মেয়ের নতুন জন্ম হলো’
ইরানের ‘কঠোর জবাবের’ বার্তার পর ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত
সর্বশেষ খবর
সংগীত নিয়ে গভীর লেখালিখি অপ্রতুল কেন?
সংগীত নিয়ে গভীর লেখালিখি অপ্রতুল কেন?
জিরো এফআইআর কী, কখন ও কোথায় দায়ের করা যায়
জিরো এফআইআর কী, কখন ও কোথায় দায়ের করা যায়
বিকেএসপিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি 
বিকেএসপিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি 
দুই বাংলার কোথাও একটা ঘরও রইলো না: তসলিমা নাসরিন
দুই বাংলার কোথাও একটা ঘরও রইলো না: তসলিমা নাসরিন
সর্বাধিক পঠিত
২০ বছর ধরে মৃত মহিউদ্দিনের বেতন তুলে নিচ্ছেন জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন
২০ বছর ধরে মৃত মহিউদ্দিনের বেতন তুলে নিচ্ছেন জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন
রাজধানীতে ঘরে ঢুকে নারী চিকিৎসককে হত্যা
রাজধানীতে ঘরে ঢুকে নারী চিকিৎসককে হত্যা
ইসরায়েল অথবা যুক্তরাষ্ট্র, যেকোনও একটিকে বেছে নিতে হবে বললেন মার্কিন জেনারেল
ইসরায়েল অথবা যুক্তরাষ্ট্র, যেকোনও একটিকে বেছে নিতে হবে বললেন মার্কিন জেনারেল
‘এনসিপির সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার না করলে আইন হাতে তুলে নেওয়া হতে পারে’
‘এনসিপির সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার না করলে আইন হাতে তুলে নেওয়া হতে পারে’
দেশের একমাত্র আইকনিক রেলস্টেশনটি বেসরকারি খাতে দেওয়া হচ্ছে
দেশের একমাত্র আইকনিক রেলস্টেশনটি বেসরকারি খাতে দেওয়া হচ্ছে