মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি প্রায় ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের বাড়িটিকে ছত্রাকে ভরা ও বিড়ালের আস্তানা থেকে আধুনিক আবাসে পরিণত করার পর এটি বিক্রি হলো। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
১৯৪০ সালে জামাইকা এস্টেটসের অভিজাত এলাকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাবা ও ডেভেলপার ফ্রেড ট্রাম্প এই টিউডর-স্টাইলের কুইন্স এস্টেটটি তৈরি করেছিলেন এবং চার বছর বয়স পর্যন্ত ট্রাম্প সেখানে বসবাস করেছিলেন। বহু বছর ধরে এই বাড়ির মালিকানায় ট্রাম্প পরিবার ছিল না।
গত জুলাই মাসে জনৈক ক্রেতা চুক্তি করার পর গত শুক্রবার রিয়েল এস্টেট ওয়েবসাইটগুলোতে ১ কোটি ৯৩ লাখ বা ১.৯৩ মিলিয়ন ডলার বিক্রয়মূল্য প্রকাশ পায়। এর আগে বাড়িটি দীর্ঘদিন খালি ও অবহেলিত অবস্থায় থাকার পর বিক্রেতা টমি লিন গত বছর ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে ৫টি শোবার ঘর ও ৩টি বাথরুমযুক্ত বাড়িটি কিনেছিলেন।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ডেভেলপার টমি লিন আট মাস ধরে অন্দরমহল সংস্কারে আরও ৫ লাখ ডলার ব্যয় করেন এবং এতে শেফদের উপযোগী রান্নাঘর, হেরিংবোন কাঠের মেঝে ও স্পার মতো বাথরুমের মতো সুযোগ-সুবিধা যোগ করা হয়। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক মাস পর বাড়িটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে হাতবদল হয়েছিল।
সে সময় ক্রেতা ছিল ‘ট্রাম্প বার্থ হোম এলএলসি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িটিকে সংক্ষেপে এয়ারবিএনবিতে ভাড়ার জন্য দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ট্রাম্পের একটি জীবনাকৃতির কার্ডবোর্ড কাটআউট, তার ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’ বইয়ের কপি এবং ট্রাম্পের ছবিযুক্ত পিপল ম্যাগাজিনের একটি বাঁধাই করা প্রচ্ছদ রাখা হয়েছিল। ২০১৯ সালে বাড়িটি আবার ২৯ লাখ ডলারের প্রাথমিক মূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হলেও টমি লিন এটি কিনে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তা বিক্রি হয়নি। এর মাঝে পাইপ ফেটে জল জমা, ছত্রাক এবং বুনো বিড়ালদের উপনিবেশ গড়ে ওঠার কারণে বাড়িটি বেহাল দশায় পড়েছিল।
বর্তমানে ৮০ বছর বয়সি এই প্রেসিডেন্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ধনী হয়ে ম্যানহাটনে তার নামানুসারে ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ তৈরি করেন এবং সেখানে দশক ধরে বসবাস করার পর খ্যাতি ও সম্পদকে রাজনীতিতে কাজে লাগান। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি বর্তমানে হোয়াইট হাউসে একটি বিশাল বলরুম যোগ করা এবং ওভাল অফিসকে সোনার প্রলেপযুক্ত সাজে সাজানোর মতো নিজস্ব বাসভবন সংস্কারের কাজ তদারকি করছেন।