বাংলাদেশে জরায়ুমুখ ক্যানসার গবেষণায় নতুন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখের লালায় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রমণ শনাক্তকরণ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ); যা দেশে ক্যানসার নির্ণয় পদ্ধতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। গবেষণাটি পরিচালিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনোকোলজিক্যাল অঙ্কোলজি বিভাগে।
এ গবেষণায় প্রধান গবেষকের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন ডা. মো. মুশফিকুর রহমান, যিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরাল এনাটমি বিভাগ থেকে এমডি সম্পন্ন করা প্রথম ব্যাচের একজন কৃতী শিক্ষার্থী।
গবেষণার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন গাইনোকোলজিক্যাল অঙ্কোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস। এছাড়া সহযোগিতা করছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা এবং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুর-ই ফেরদৌস, ডা. মনোয়ারা বেগম ও ডা. লতিফা আখতার।
গবেষণাটির মূল লক্ষ্য হলো সার্ভিকাল স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা রোগীদের লালায় এইচপিভি সংক্রমণের উপস্থিতি ও এর অবস্থা নির্ণয় করা। এইচপিভি বিশ্বব্যাপী জরায়ুমুখ ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত। সাধারণত এই ভাইরাস শনাক্তে ইনভেসিভ পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও, লালার মাধ্যমে এটি শনাক্ত করা গেলে তা হতে পারে সহজ, কম খরচের এবং রোগীর জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিকল্প।
প্রধান গবেষক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে; যা ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের গবেষণা এখনও খুব সীমিত। ফলে এ গবেষণার ফলাফল দেশের ক্যানসার গবেষণায় নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গবেষকরা মনে করছেন, সার্ভিকাল ক্যানসার ও মুখের লালায় এইচপিভি সংক্রমণের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।