ঈদের ছুটিতে হাম ও উপসর্গে মারা গেলো যতজন

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। ঈদের ছুটি শুরুর পর গত সাত দিনে হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২৬ মে থেকে ১ জুন সকাল পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে প্রতিদিনই নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় সংক্রমণের বিস্তার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামে ও উপসর্গ নিয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয় ১ হাজার ৮৩ জন।

২৭ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। এ সময় নতুন আক্রান্ত হয় ১ হাজার ৫৬ জন।

২৮ মে ঈদের দিনও ৫ জন মারা যায়। সেদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামে ও উপসর্গে এই ৫ জনের মৃত্যু হয়।

২৯ মে প্রকাশিত বুলেটিনে জানানো হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে দুইজন এবং সন্দেহজনক হামে আটজন মারা যায়। একই সময়ে নতুন আক্রান্ত হয় ৭৩২ জন।

৩০ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়। এদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৩ জন।

এদিকে গতকাল ৩১ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ আজ ১ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে ২৬ মে থেকে ১ জুন সকাল পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১ জুন সকাল পর্যন্ত দেশে হামে ও হামের উপসর্গে মোট ৫৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগটি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।