হার্টের কোন সমস্যা মৃত্যু ডেকে আনে জানেন?

বাংলাদেশে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদ্‌রোগ। আপাত সুস্থতার আড়ালেও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় এমন কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য—‘একটি বিট মিস করবেন না—হৃদ্‌রোগ স্পষ্ট দৃষ্টিতে লুকিয়ে থাকতে পারে’। এর মাধ্যমে হৃদ্‌রোগের সতর্ক সংকেত চেনা, হৃদ্‌স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা এবং এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশে মানুষের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৩ বছর। ২০২২ সালে এ হার ছিল ৭২ দশমিক ৪ বছর। একই জরিপে মৃত্যুর শীর্ষ কারণগুলোর মধ্যে হৃদ্‌রোগকে প্রথম এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোককে দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর বড় একটি অংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, কিডনি ও শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ এসব অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, মদ্যপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব কারণে ধমনিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে যেতে পারে। একপর্যায়ে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে ঘটতে পারে হার্ট অ্যাটাক।

খাবারে অতিরিক্ত লবণও বাড়ায় ঝুঁকি

হার্টের সুস্থতার জন্য খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকেরা খাবারে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। শুধু রান্না করা খাবার নয়, প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারেও অতিরিক্ত লবণ থাকতে পারে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে উচ্চ রক্তচাপসহ হৃদ্‌রোগের বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রমের অভাবও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত হাঁটা বা অন্যান্য শারীরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শরীর সক্রিয় রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন হার্ট অ্যাটাক হয়?

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ হলো হৃদ্‌যন্ত্রের ধমনিতে কোলেস্টেরলসহ বিভিন্ন পদার্থ জমে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে যাওয়া। একপর্যায়ে ধমনি বন্ধ হয়ে গেলে হৃদ্‌যন্ত্রের একটি অংশে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। তখন হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ঐতিহ্যগতভাবে শর্করাজাতীয় খাবারের ওপর বেশি নির্ভরতা এবং পর্যাপ্ত আমিষ, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার না খাওয়ার কারণে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টিও উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা অলস জীবনযাপন করেন এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন না, তাদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। পাশাপাশি বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব কিংবা হঠাৎ দুর্বলতার মতো হার্ট অ্যাটাকের সতর্ক সংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।