চাকরির আবেদন মানেই শুধু ভালো একটি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) বা সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নয়। বর্তমান চাকরির বাজারে আপনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতিও নিয়োগদাতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রার্থীর প্রকাশ্য প্রোফাইল দেখে তার পেশাদারিত্ব, যোগাযোগের ধরন এবং অনলাইন আচরণ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করে।
তাই চাকরির আবেদন করার আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয়ভাবে গুছিয়ে নেওয়া এখন স্মার্ট ক্যারিয়ার প্রস্তুতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ডিজিটাল পরিচয়েই তৈরি হয় প্রথম ধারণা
সাক্ষাৎকারের আগে অনেক নিয়োগদাতা প্রার্থীর নাম দিয়ে অনলাইনে খোঁজ করেন। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য তথ্য পাওয়া গেলে, সেগুলো থেকেই একজন প্রার্থীর সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হতে পারে।
তবে শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল দেখে কারও যোগ্যতা বা দক্ষতা বিচার করা উচিত নয়। কিন্তু একজন ব্যক্তি অনলাইনে নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করেন, তার যোগাযোগের ধরন ও প্রকাশ্য আচরণ অনেক সময় নিয়োগদাতাদের নজরে আসে।
তাই চাকরির আবেদন করার আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলের তথ্য ও পোস্টগুলো যেন আপনার পেশাদার পরিচয় ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।
প্রকাশ্য পোস্টগুলো পর্যালোচনা করুন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে করা অনেক পোস্ট, ছবি কিংবা মন্তব্য এখনও সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু বিষয় সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আপনার বর্তমান ব্যক্তিত্ব বা পেশাগত অবস্থানের সঙ্গে নাও মিলতে পারে।
চাকরির আবেদন করার আগে নিজের প্রকাশ্য পোস্টগুলো একবার দেখে নেওয়া ভালো। এমন কোনও পোস্ট, ছবি বা মন্তব্য থাকলে যা ভুল বার্তা দিতে পারে বা অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, সেগুলো মুছে ফেলা কিংবা ব্যক্তিগত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে এর অর্থ নিজের মতামত গোপন করা নয়। বরং অনলাইনে কোন তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং তা কীভাবে আপনার ডিজিটাল পরিচয়কে তুলে ধরবে, সে বিষয়ে সচেতন হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রোফাইল যেন অসম্পূর্ণ না থাকে
অনেকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে কোনও ছবি নেই, পরিচয় অসম্পূর্ণ অথবা বহু বছর ধরে হালনাগাদ করা হয়নি। আবার কেউ এমন ছবি ব্যবহার করেন, যা ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
একটি পরিচ্ছন্ন ছবি, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং হালনাগাদ তথ্য আপনার প্রোফাইলকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে।
মন্তব্য করার ক্ষেত্রেও সচেতনতা জরুরি
শুধু নিজের পোস্ট নয়, অন্যের পোস্টে করা মন্তব্যও অনেক সময় প্রকাশ্য থাকে।
রাগের মাথায় লেখা আক্রমণাত্মক মন্তব্য, অশালীন ভাষা কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ একজন মানুষের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
মতের অমিল থাকতেই পারে। তবে সেটি প্রকাশের ভাষা ও ভঙ্গিও একজন মানুষের পেশাদার মানসিকতার পরিচয় বহন করে।
নিজের ভালো কাজগুলোও তুলে ধরুন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, এটি নিজের কাজ তুলে ধরারও একটি মাধ্যম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো গবেষণা, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ কিংবা কোনো অর্জন থাকলে সেগুলোও পরিমিতভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে।
এতে শুধু নিয়োগদাতাই নয়, একই ক্ষেত্রের অন্য পেশাজীবীরাও আপনার কাজ সম্পর্কে জানতে পারেন।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সেটিংস ব্যবহার করুন
সব তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজন নেই।
বর্তমানের অধিকাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নির্ধারণ করে দেওয়া যায়, কোন পোস্ট সবাই দেখবে, কোনটি শুধু বন্ধুদের জন্য থাকবে।
ব্যক্তিগত ছবি, পারিবারিক তথ্য কিংবা সংবেদনশীল বিষয়গুলো প্রকাশ্য রাখার আগে একবার ভেবে দেখা উচিত।
গোপনীয়তার সঠিক ব্যবহার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি পেশাগত ভাবমূর্তিও রক্ষা করতে সাহায্য করে।
যা মনে রাখা জরুরি
চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কখনোই তার বিকল্প নয়। তবে বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় অনলাইন উপস্থিতিও একজন মানুষের সামগ্রিক পরিচয়ের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
তাই চাকরির আবেদন করার আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল কয়েক মিনিট সময় নিয়ে পর্যালোচনা করা একটি বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় প্রকাশ্য তথ্য সরিয়ে ফেলা, প্রোফাইল হালনাগাদ রাখা এবং নিজের ভালো কাজগুলো পরিমিতভাবে তুলে ধরা আপনাকে আরও পেশাদারভাবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করবে।