কঠোর নজরদারির মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ফায়ারফাইটার পদের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের জাহাঙ্গীর গেটে অবস্থিত বিএএফ শাহীন কলেজে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সময় কিছু বিষয় কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে ফায়ার সার্ভিস।
সেগুলো হচ্ছে- প্রবেশপথে এবং ভেতরের বিভিন্ন জায়গায় আর্থিক লেনেদেন বা কোনও অনৈতিক কাজে জড়িত না হওয়ার সতর্কবার্তা সংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়। প্রবেশপত্র দেখে পরীক্ষার্থীদের মেইন গেটের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। মূল গেটের ভেতরে প্রবেশের পর মাঠ পরীক্ষার সময় তুলে রাখা প্রার্থীদের ছবির সঙ্গে চেহারা মিলিয়ে তাদের হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয় এবং কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষার প্রতিটি স্তরের কার্যক্রম মনিটরিং করা হয়েছে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার পাশাপাশি ভিডিও ক্যামেরা ও স্টিল ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণের স্থির ও চলমান চিত্র ধারণ করা হয়।
বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকার পাশাপাশি প্রতিটি হলরুমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের ডিউটিতে নিয়োজিত রাখা হয়। পরীক্ষা গ্রহণের পর একই দিন খাতা মূল্যায়ন শেষে ভাইবা পরীক্ষার জন্য নির্বাচিতদের তালিকা ফায়ার সার্ভিসের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট (fireservice.gov.bd) ও ফেসবুক পেইজে (https://www.facebook.com/fscd.bd) প্রকাশ করা হবে।
লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের দিন ও তার আগের দিন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের কাউকে ছুটি দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নির্ধারিত ডিউটি প্রদানকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্যদের নিয়োগ চলাকালীন পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয় না।
নিয়োগ কমিটির সভাপতি পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শহীদ আতাহার হোসেনসহ নিয়োগ কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির পাশাপাশি অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল পরীক্ষার সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
নিরাপত্তা কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা সমুন্নত রাখার কাজে সহযোগিতা করেন।
উল্লেখ্য, নিয়োগের জন্য শূন্য পদের সংখ্যা: ফায়ারফাইটার-১৬৫, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট-২, ড্রাইভার-১৩ এবং ইঞ্জিন ড্রাইভার-১। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল ১৮৪২ জন। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৭৭৩ জন।