সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগের সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র পাননি ৮৩ জন প্রার্থী। নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সামনে দুই দিন ধরে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণও তাদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরেও অধিদফতরের সামনে অবস্থান করছিলেন নিয়োগপত্রবঞ্চিত প্রার্থীরা। তাদের একজন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের মো. আবু তালহা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ পেলেও তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ওমর ফারুকও রয়েছেন। তাকেও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কী কারণে তাকে বাদ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে তারা অধিদফতরের সামনে অবস্থান নেন। এ দিন তাদের দুজনকে আলোচনার জন্য অধিদফতরের ভেতরে নেওয়া হয়। তবে আলোচনা থেকে কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে নিয়োগপত্রের দাবিতে তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে রবিবার রাতে নিয়োগপত্রের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের একটি অংশ। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন কাফনের কাপড় পরে অনশনে বসেন। নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা স্পষ্ট করতে হবে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে তাদের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করতে হবে।
এর আগে অনশনে অংশ নেওয়া প্রার্থী জাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না দেওয়ার কারণ তাদের জানানো হয়নি। রবিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অধিদফতরের সামনে অবস্থান ও অনশন করলেও কোনও কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে দেখা করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
নিয়োগের প্রেক্ষাপট
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। প্রায় আট মাস পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। পরবর্তী সময়ে কয়েক ধাপে নিয়োগের আদেশ দেওয়া হলেও ৮৩ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।