ইউরোপ ভ্রমণের কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রথমে আসে প্যারিস, রোম বা ভূমধ্যসাগরের সমুদ্রসৈকতের কথা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বদলেছে ভ্রমণপ্রেমীদের পছন্দ। গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে এখন অনেকেই ভিড় এড়িয়ে ছুটছেন ইউরোপের মনোরম হ্রদ ও পাহাড়ি অঞ্চলে।
প্রকৃতির কাছাকাছি শান্ত পরিবেশ, নির্মল বাতাস এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ইউরোপের এসব গন্তব্য দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যারা কোলাহল থেকে দূরে নিরিবিলি ছুটি কাটাতে চান, তাদের জন্য হ্রদ ও পাহাড়ি অঞ্চল হতে পারে আদর্শ পছন্দ।
অস্ট্রিয়ার টিরোল অঞ্চলের পাহাড়ি ট্রেইলে হাঁটা, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার কোনও হ্রদের ধারে কাঠের কেবিনে রাত কাটানো কিংবা আল্পস পর্বতমালার বুক চিরে ট্রেনে ভ্রমণ— প্রতিটি অভিজ্ঞতাই ভ্রমণকে করে তোলে স্মরণীয়।
বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছেও ইউরোপের এসব প্রাকৃতিক গন্তব্য ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যারা একাধিক দেশের সমন্বয়ে ইউরোপ ট্যুরের পরিকল্পনা করেন, তারা সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, সুইডেন বা স্লোভেনিয়ার হ্রদ ও পাহাড়ি এলাকাকে ভ্রমণসূচিতে রাখছেন।
অনেকের মতে, ইউরোপের পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের জন্য মে থেকে সেপ্টেম্বর সময়টি সবচেয়ে উপযুক্ত। এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ থাকে, পাহাড়ি ট্রেইলগুলো চলাচলের উপযোগী হয় এবং হ্রদগুলোর সৌন্দর্যও থাকে চোখ জুড়ানো।
অন্যদিকে, যারা বরফে ঢাকা পাহাড়, স্কিইং কিংবা শীতের রূপ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় আদর্শ।
ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে আগে থেকেই শেনজেন ভিসা, ভ্রমণ বীমা, আবাসন এবং ট্রেন বা অভ্যন্তরীণ পরিবহনের বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি প্রতিটি দেশের আবহাওয়া ও স্থানীয় নিয়ম সম্পর্কে ধারণা নিয়ে যাত্রা করলে ভ্রমণ হবে আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মাঝে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে ইউরোপের হ্রদ ও পাহাড়ি অঞ্চল হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের অন্যতম সেরা গন্তব্য।