আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য সুখবর। আগাম ভিসা না নিয়েই বিশ্বের ৩৫টি গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশিদের। এর মধ্যে রয়েছে ভিসামুক্ত প্রবেশ, বিমানবন্দরে ভিসা বা ভিসা অন অ্যারাইভাল এবং ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) সুবিধা।
ভ্রমণপিপাসু বাংলাদেশিদের জন্য এর অর্থ হলো— দীর্ঘ ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া, কাগজপত্রের ঝামেলা এবং অপেক্ষার সময় কিছুটা কমিয়ে সহজে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করা সম্ভব। তবে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ প্রবেশনীতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শর্ত যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
কোন কোন দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা যেসব গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়াই বা সহজ প্রবেশ সুবিধায় যেতে পারেন, তার মধ্যে রয়েছে—
ভিসামুক্ত গন্তব্য: বার্বাডোস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, কুক আইল্যান্ডস, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, রুয়ান্ডা, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, দ্য বাহামাস, দ্য গাম্বিয়া, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং ভানুয়াতু।
ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধার গন্তব্য: ভুটান, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, নেপাল, নিয়ু, সামোয়া, সিয়েরা লিওন, তিমুর-লেস্তে ও টুভালু।
ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) সুবিধা: কেনিয়া, সেশেলস, শ্রীলঙ্কা এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস।
ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য কী সুবিধা
আগাম ভিসার বাধ্যবাধকতা না থাকায় এসব গন্তব্যে ভ্রমণের পরিকল্পনা তুলনামূলক সহজ হয়। বিশেষ করে যারা স্বল্প সময়ের ছুটি, হানিমুন, পারিবারিক ভ্রমণ বা হঠাৎ ট্রিপের পরিকল্পনা করেন, তাদের জন্য এই সুবিধা বড় সুযোগ তৈরি করে।
এ ছাড়া ভিসা আবেদন ফি, দূতাবাসে যাতায়াত, সাক্ষাৎকার ও দীর্ঘ অপেক্ষার মতো বিষয় এড়িয়ে অনেক ক্ষেত্রে ভ্রমণের প্রস্তুতি দ্রুত নেওয়া যায়।
জনপ্রিয় কয়েকটি গন্তব্য
বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও কম্বোডিয়া তুলনামূলক পরিচিত গন্তব্য। সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, সংস্কৃতি ও অ্যাডভেঞ্চারের জন্য এসব দেশের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।
অন্যদিকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশগুলো, আফ্রিকার কয়েকটি গন্তব্য এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো নতুন অভিজ্ঞতার সন্ধানী ভ্রমণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে।
ভ্রমণের আগে যা মনে রাখবেন
আগাম ভিসা না লাগলেও সাধারণত বৈধ পাসপোর্ট, ফেরত আসার টিকিট, থাকার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণসহ কিছু শর্ত পূরণ করতে হতে পারে। এ ছাড়া ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধার নিয়ম যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া ভালো।
সহজ প্রবেশ সুবিধার এই তালিকা বাংলাদেশিদের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকলে কম ঝামেলায় উপভোগ করা যেতে পারে বিশ্বের নানা প্রান্তের সৌন্দর্য।









