নাটোরের বিস্তৃত সবুজের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাসাদ, ফটক, দীঘি আর সাজানো বাগানে ঘেরা দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি যেন বাংলার রাজকীয় অতীতের এক জীবন্ত স্মারক। বর্তমানে উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি নাটোর ভ্রমণে গেলে পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম জায়গা।
নাটোর শহর থেকে প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি। দিঘাপতিয়া রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত এই প্রাসাদ কমপ্লেক্সে রয়েছে মূল রাজপ্রাসাদ, বিভিন্ন ভবন, পুকুর ও বিস্তৃত বাগান। ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর প্রভাবের সঙ্গে বাংলার নিজস্ব নির্মাণরীতির মিশেল দেখা যায় এর বিভিন্ন স্থাপনায়।
নামের সঙ্গে জড়িয়ে রাষ্ট্রীয় ইতিহাস
স্বাধীনতার পর দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি নতুন পরিচয় পায়। ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এটিকে গভর্নর হাউস হিসেবে ব্যবহার করেন। পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটিকে উত্তরা গণভবন নাম দেন। এরপর এটি উত্তরাঞ্চলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি আবাস ও কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
রাজবাড়ির প্রধান ফটক পেরোলেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা বিস্তৃত প্রাঙ্গণ। পুরোনো ভবনগুলোর স্থাপত্য, পুকুর ও বাগানের বিন্যাস জায়গাটিকে অন্যরকম সৌন্দর্য দিয়েছে। প্রাসাদ চত্বরে থাকা বিভিন্ন গাছপালা ও ফুলের বাগানও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
এক সফরে ইতিহাস ও প্রকৃতি
দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি ঘুরতে গেলে শুধু প্রাসাদের স্থাপত্য নয়, পুরো কমপ্লেক্সের পরিবেশও উপভোগ করা যায়। রাজবাড়ির আশপাশের সবুজ আর শান্ত পরিবেশ শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা স্বস্তি দেয়।
নাটোর ভ্রমণে গেলে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির পাশাপাশি নাটোর রাজবাড়ি, উত্তরা গণভবনের আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলোও ভ্রমণতালিকায় রাখা যেতে পারে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে নাটোর শহরে পৌঁছানো যায়। নাটোর শহর থেকে রিকশা, অটোরিকশা বা স্থানীয় যানবাহনে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির এলাকায় যাওয়া সম্ভব।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—উত্তরা গণভবন সব সময় সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে না। সরকারি অনুষ্ঠান, নিরাপত্তাজনিত কারণ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। তাই যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রবেশের অনুমতি ও সময়সূচি জেনে নেওয়া ভালো।
রাজকীয় স্থাপত্য, ইতিহাস আর সবুজ প্রকৃতির মেলবন্ধন দেখতে চাইলে নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি হতে পারে চমৎকার একটি ভ্রমণস্পট। তবে শুধু ছবি তুলে ফিরে না এসে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘ ইতিহাসটুকু জেনে নিলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও হবে আরও সমৃদ্ধ।