চা-বাগান, পাহাড় আর নদীর মায়াবী ঠিকানা দার্জিলিংয়ের তাবাকোশী

পাহাড় মানেই শুধু দার্জিলিং, ম্যাল, টাইগার হিল কিংবা কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য। এই ধারণা বদলে দিতে পারে ভারতের উত্তরবঙ্গের এক শান্ত, সবুজ জনপদ তাবাকোশী। দার্জিলিং জেলার মিরিকের কাছাকাছি গোপালধারা চা-বাগানের পাশে রংবং নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ এখন ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে অফবিট ভ্রমণপিপাসুদের তালিকায়।

শহুরে কোলাহল থেকে দূরে তাবাকোশীর প্রধান আকর্ষণ তার নিস্তব্ধ প্রকৃতি। চারপাশে সবুজ চা-বাগান, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা গ্রাম, আর পাশ দিয়ে বয়ে চলা রংবং নদী সব মিলিয়ে এখানে প্রকৃতির সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ মেলে।

স্থানীয় পর্যটন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাবাকোশীতে নদী ভ্রমণ, চা-বাগানে হাঁটা, গ্রাম ঘুরে দেখা এবং প্রকৃতি উপভোগের মতো নানা অভিজ্ঞতা রয়েছে। নদীর পাশে পাহাড়ি সকাল তাবাকোশীর সকাল শুরু হয় নদীর কলকল শব্দ আর পাখির ডাকের সঙ্গে। রংবং নদীর পাথুরে তীর ধরে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যায় পাহাড়ি প্রকৃতির নানা রূপ। নদীর ধারে বসে সময় কাটানো কিংবা সবুজের মধ্যে নিরিবিলি হাঁটাহাঁটি দুটিই হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম আনন্দ।

চা-বাগানের পথে হাঁটা তাবাকোশীকে ঘিরে রয়েছে গোপালধারা-সহ একাধিক চা-বাগান। চা-বাগানের আঁকাবাঁকা পথ ধরে হাঁটলে পাহাড়ি জনজীবনের সঙ্গে কাছ থেকে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মেলে। পর্যটকদের জন্য চা-বাগান ট্রেইল ও গ্রাম ভ্রমণও এখানকার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাবাকোশীতে থাকার জন্য রয়েছে একাধিক হোমস্টে। নদীর ধারে বা চা-বাগানের সবুজের মধ্যে হোমস্টেতে থাকার অভিজ্ঞতা এই সফরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। স্থানীয় পর্যটন দফতরও এখানে হোমস্টের কথা উল্লেখ করেছে এবং আগে থেকে বুকিং করার পরামর্শ দিয়েছে।

তাবাকোশীতে যেতে হলে প্রথমে নিউ জলপাইগুড়ি বা বাগডোগরা হয়ে মিরিক পৌঁছানো যায়। পর্যটন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, নিউ জলপাইগুড়ি ও বাগডোগরা দুই জায়গা থেকেই তাবাকোশীর দূরত্ব প্রায় ৬২ কিলোমিটার এবং গাড়িতে আনুমানিক আড়াই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। মিরিক থেকে স্থানীয় গাড়ি নিয়েও তাবাকোশী যাওয়া যায়। কাছেই মিরিক তাবাকোশী ভ্রমণের সঙ্গে মিরিককে সহজেই যুক্ত করা যায়। মিরিক লেক, স্থানীয় মঠ ও আশপাশের পাহাড়ি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখে একই সফরে তাবাকোশীর নির্জন প্রকৃতির স্বাদ নেওয়া সম্ভব।

উত্তরবঙ্গ স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের পর্যটন প্যাকেজেও তাবাকোশী ও মিরিককে একই ভ্রমণসূচিতে রাখা হয়েছে।

দার্জিলিংয়ের ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রের বদলে যারা পাহাড়ের নীরবতা, নদীর শব্দ আর চা-বাগানের সবুজে কয়েকটা দিন কাটাতে চান, তাদের জন্য তাবাকোশী হতে পারে দারুণ এক বিকল্প। জনপ্রিয় পাহাড়ি শহরের ভিড় থেকে একটু দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার জন্য এই ছোট্ট জনপদই হয়ে উঠতে পারে পরের ভ্রমণের নতুন ঠিকানা।