তাম্বুলখানা থেকে গোবিন্দপুর, পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতির পথে ভ্রমণ

ফিচার ডেস্ক
২০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩০আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৬

বাংলার পল্লিজীবনকে যিনি কবিতা, গান ও সাহিত্যে অমর করে গেছেন, সেই জসীমউদ্দীন শুধু একজন কবি নন, বাংলার লোকজ সংস্কৃতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তাঁর জন্মস্থান তাম্বুলখানা, পৈতৃক ভিটা গোবিন্দপুর এবং স্মৃতিবিজড়িত অম্বিকাপুর ঘুরে দেখা যেতে পারে একদিনের ছোট্ট ভ্রমণে। এই যাত্রায় প্রকৃতি, ইতিহাস ও সাহিত্য তিনটিরই স্বাদ মিলবে।

জসীমউদ্দীনের জন্ম ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে। তাঁর নানার বাড়িতে ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মেছিলেন পল্লীকবি। তাই কবির জন্মস্থান দেখতে চাইলে ভ্রমণের শুরুটা হতে পারে তাম্বুলখানা থেকে।

শহরের ব্যস্ততা পেরিয়ে গ্রামের দিকে এগোলে বদলে যাবে চারপাশের দৃশ্য। রাস্তার দুই পাশে সবুজ, পুকুর, গাছপালা আর গ্রামীণ বসতি যে পরিবেশের সঙ্গে জসীমউদ্দীনের শৈশব ও সাহিত্যিক চেতনার গভীর সম্পর্ক ছিল।

জন্মস্থান ঘুরে দেখার সময় শুধু একটি স্থাপনা দেখেই ফিরে না এসে আশপাশের গ্রামীণ পরিবেশটিও উপভোগ করা যায়। কারণ কবির সাহিত্য বোঝার জন্য তাঁর বেড়ে ওঠার ভূগোলটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তাম্বুলখানা থেকে এবার যাওয়া যায় গোবিন্দপুরে। এটি জসীমউদ্দীনের পৈতৃক গ্রামের সঙ্গে যুক্ত। কবির পরিবারের শিকড় ও তাঁর স্মৃতির সঙ্গে এই গ্রামের সম্পর্ক গভীর।

গোবিন্দপুরে গেলে গ্রামের পরিবেশের পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো ঘুরে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে কবির সমাধিস্থল ও পারিবারিক স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত জায়গাগুলো ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। কবির সাহিত্য পড়তে পড়তে যে গ্রামবাংলার ছবি কল্পনায় আসে, গোবিন্দপুরে গেলে সেই পরিবেশের অনেকটাই বাস্তবে অনুভব করা সম্ভব।

এরপর ভ্রমণের গন্তব্য হতে পারে অম্বিকাপুর। ফরিদপুর সদর উপজেলার এই এলাকায় কুমার নদের তীরে রয়েছে পল্লীকবি জসীম উদ্দীন জাদুঘর ও লোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। কবির জীবন, সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত স্মৃতি জানতে এটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ঘুরে দেখার পাশাপাশি কুমার নদের তীরের পরিবেশও উপভোগ করা যায়।

যাঁরা সাহিত্য ও ইতিহাসপ্রেমী, তাঁদের জন্য এই জায়গাটি ভ্রমণের বিশেষ আকর্ষণ হতে পারে।

জসীমউদ্দীনের সাহিত্যজগতে নদী, নৌকা, মাঠ, কৃষক ও গ্রামীণ জীবন বারবার ফিরে এসেছে। তাই অম্বিকাপুরে গেলে কুমার নদের তীরে কিছুটা সময় কাটানো যেতে পারে। নদীর পাড়ে বসে কবির ‘নকশী কাঁথার মাঠ’, ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ কিংবা ‘কবর’র মতো রচনার কথা মনে করলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও অন্য রকম হয়ে উঠবে।

তবে নদী বা জলাশয়ের কাছে গেলে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। বর্ষাকালে পানির স্রোত ও নদীর তীরের অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয়দের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ঢাকা থেকে ফরিদপুর যেতে সড়কপথে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে ফরিদপুরের যোগাযোগও আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।

ফরিদপুর শহরে পৌঁছে স্থানীয় অটোরিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি বা রিকশায় বিভিন্ন স্মৃতিবিজড়িত স্থানে যাওয়া যায়। তবে তাম্বুলখানা, গোবিন্দপুর ও অম্বিকাপুরের নির্দিষ্ট দর্শনীয় স্থানগুলোর অবস্থান ও স্থানীয় যাতায়াতের ব্যবস্থা আগে থেকে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

সময় কম থাকলে একদিনেই ফরিদপুর শহর থেকে জসীমউদ্দীনের জন্মস্থান, পৈতৃক এলাকা এবং অম্বিকাপুরের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো ঘুরে দেখা সম্ভব হতে পারে। তবে তাড়াহুড়ো না করে গ্রামীণ পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে দুই দিনের পরিকল্পনা ভালো।

প্রথম দিন যেতে পারেন তাম্বুলখানা ও গোবিন্দপুরে। দ্বিতীয় দিন অম্বিকাপুর, জাদুঘর ও কুমার নদের তীর ঘুরে দেখা যেতে পারে।

শীত ও বসন্তকাল এই ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক। এ সময় গ্রামের পথঘাটে ঘোরাফেরা এবং খোলা পরিবেশ উপভোগ করা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। বর্ষায় ফরিদপুরের প্রকৃতি আরও সবুজ হয়ে উঠলেও গ্রামীণ রাস্তার অবস্থা ও নদীর পানির স্তর বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা উচিত।

গ্রামীণ এলাকায় ঘোরার জন্য আরামদায়ক পোশাক ও জুতা, ছাতা বা রেইনকোট, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানির বোতল ও মোবাইলের পাওয়ারব্যাংক সঙ্গে রাখা ভালো। ছবি তুলতে চাইলে ক্যামেরা বা মোবাইল অবশ্যই সঙ্গে রাখা যায়।

জসীমউদ্দীনের সাহিত্য পড়লে যে গ্রামবাংলার ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, ফরিদপুরের তাম্বুলখানা, গোবিন্দপুর ও অম্বিকাপুর ভ্রমণ সেই কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের একটি যোগ তৈরি করতে পারে।

একদিকে পল্লীকবির জন্ম ও পারিবারিক স্মৃতি, অন্যদিকে নদী, মাঠ, গ্রামীণ জনপদ আর লোকজ সংস্কৃতি মিলে এটি শুধু একজন কবির স্মৃতিচিহ্ন দেখতে যাওয়ার ভ্রমণ নয়। বরং বাংলার মাটি ও মানুষের সঙ্গে জসীমউদ্দীনের গভীর সম্পর্ককে কাছ থেকে অনুভব করার একটি সাহিত্যভিত্তিক ভ্রমণ।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
হ্রদের দেশে ‘হিটেড রাইভ্যালরি’র কটেজের খোঁজে
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে বৈঠক
নৌকায় সুইজারল্যান্ডের ভুলে যাওয়া হ্রদাঞ্চল ঘুরে দেখা
সর্বশেষ খবর
মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইটে নতুন পরিবর্তন, বাংলাদেশি যাত্রীদের কী জানা দরকার
মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইটে নতুন পরিবর্তন, বাংলাদেশি যাত্রীদের কী জানা দরকার
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার নিহত দুই জনের বিষয়ে যা জানা গেলো
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার নিহত দুই জনের বিষয়ে যা জানা গেলো
জ্বালানি আমদানির খরচে রেকর্ড, এক বছরে বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি
জ্বালানি আমদানির খরচে রেকর্ড, এক বছরে বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি
বাংলাদেশ স্কাউটসে ২৩ জন নিয়োগ, আজ থেকে আবেদন শুরু
বাংলাদেশ স্কাউটসে ২৩ জন নিয়োগ, আজ থেকে আবেদন শুরু
সর্বাধিক পঠিত
নাটোরের ডিসি প্রত্যাহার, এক উপজেলার ইউএনও বদলি
নাটোরের ডিসি প্রত্যাহার, এক উপজেলার ইউএনও বদলি
আরেক কনেকে বিয়ে করলেন সেই প্রবাসী, পাতে পেলেন আস্ত খাসি
আরেক কনেকে বিয়ে করলেন সেই প্রবাসী, পাতে পেলেন আস্ত খাসি
ঢাকায় বাবার লাশ মুন্সীগঞ্জে মায়ের মুক্তির জন্য দৌড়াচ্ছেন দীপু মনির মেয়ে
ঢাকায় বাবার লাশ মুন্সীগঞ্জে মায়ের মুক্তির জন্য দৌড়াচ্ছেন দীপু মনির মেয়ে
আওয়ামী লীগের চারবারের সাবেক এমপি মারা গেছেন
আওয়ামী লীগের চারবারের সাবেক এমপি মারা গেছেন
তারেক রহমানের ভারত সফরের সময় খুবই সীমিত: সাবেক কূটনীতিক
তারেক রহমানের ভারত সফরের সময় খুবই সীমিত: সাবেক কূটনীতিক