বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরীক্ষায় দ্রুত কাজ সারতে মেনে চলুন এই কৌশল

বিমান ধরার আগে সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয় কোথায়? অনেকের উত্তর হবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরীক্ষায়। ব্যাগ খুলে জিনিসপত্র বের করা, প্রয়োজনীয় নথি খোঁজা, ইলেকট্রনিকস আলাদা করা কিংবা তরল প্রসাধনীর প্যাকেট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া সব মিলিয়ে বোর্ডিংয়ের আগেই শুরু হয়ে যায় ছোটখাটো দৌড়ঝাঁপ। তবে একটু আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে এই পর্বটাই হয়ে উঠতে পারে অনেক সহজ।

নিয়মিত বিমানযাত্রীদের অভিজ্ঞতা বলছে, নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় যত কম জিনিস এলোমেলো থাকে, তত দ্রুত গোটা প্রক্রিয়া শেষ করা যায়। তাই বিমানবন্দরের উদ্দেশে বেরোনোর আগেই কেবিন ব্যাগটি এমনভাবে গুছিয়ে নেওয়া ভালো, যাতে প্রয়োজনের সময় কোনও জিনিস খুঁজতে ব্যাগের সবকিছু বের করতে না হয়।

ইলেকট্রনিকস থাকুক এক জায়গায়

ল্যাপটপ, ট্যাব, ক্যামেরা, পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী ব্যাগের বিভিন্ন কোণে ছড়িয়ে রাখলে নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় সমস্যা বাড়ে। তার বদলে এগুলো একটি নির্দিষ্ট অংশে গুছিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে আলাদা একটি ছোট ব্যাগ বা পাউচ ব্যবহার করুন। নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় প্রয়োজন হলে একসঙ্গে বের করে ট্রেতে রাখা যাবে।

চার্জার ও তারের জট এড়াতেও আগে থেকেই সেগুলো গুছিয়ে নেওয়া জরুরি। এতে ব্যাগ খুলে দীর্ঘ সময় ধরে জিনিস খোঁজার প্রয়োজন হবে না।

গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের জন্য আলাদা জায়গা

পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র, বোর্ডিং পাস কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি ব্যাগের গভীরে রাখবেন না। সহজে পাওয়া যায় এমন একটি নির্দিষ্ট পকেটে রাখুন। নিরাপত্তাকর্মী বা বিমানবন্দরের অন্য কোনও কর্মী নথি দেখতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে বের করে দেখাতে পারবেন।

ডিজিটাল বোর্ডিং পাস ব্যবহার করলেও ফোনের চার্জ যেন পর্যাপ্ত থাকে, সেটিও খেয়াল রাখা দরকার। প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ নথির অফলাইন কপি রাখাও কাজে আসতে পারে।

পোশাক ও জুতোর ক্ষেত্রেও একটু কৌশলী হন

নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় কখনও কখনও জুতো খুলতে হতে পারে। তাই বিমানবন্দরে যাওয়ার দিন এমন জুতো পরা সুবিধাজনক, যা সহজে খোলা ও পরা যায়। খুব বেশি ধাতব অংশ রয়েছে এমন পোশাক বা আনুষঙ্গিক সামগ্রীও নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত ঝামেলা তৈরি করতে পারে।

বেল্ট, ঘড়ি, বড় ধাতব গয়না বা পকেটে থাকা কয়েনের মতো জিনিস আগে থেকেই কোথায় রাখবেন, তা ঠিক করে নিলে পরীক্ষার সময় অপ্রস্তুত হতে হবে না।

প্রসাধনী গুছিয়ে রাখুন নিয়ম মেনে

কেবিন ব্যাগে শ্যাম্পু, লোশন, পারফিউম, ক্রিম বা অন্য কোনও তরল কিংবা জেলজাতীয় সামগ্রী রাখলে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনসের নিয়ম আগে দেখে নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে কেবিন ব্যাগে বহন করা তরলের ক্ষেত্রে প্রতি পাত্রে সর্বোচ্চ ১০০ মিলিলিটারের সীমা থাকে।

তাই বড় বোতল সঙ্গে নেওয়ার বদলে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ছোট, উপযুক্ত পাত্রে নিয়ে আলাদা স্বচ্ছ জিপ-ব্যাগে রাখলে নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় সুবিধা হয়। তবে গন্তব্য ও বিমানবন্দরের নিয়ম আলাদা হতে পারে—তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

ব্যাগে কী আছে, নিজেই জানুন

অনেক সময় নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় সমস্যার সূত্রপাত হয় ব্যাগে এমন কোনও জিনিস থাকার কারণে, যেটি যাত্রী নিজেই ভুলে গিয়েছেন। তাই বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে একবার কেবিন ব্যাগের পুরোটা দেখে নিন। বিশেষ করে আগের কোনও সফরের পর ব্যাগে রয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ বা সন্দেহ তৈরি করতে পারে এমন জিনিস থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন।

ব্যাগে অপ্রয়োজনীয় জিনিস যত কম থাকবে, নিরাপত্তা পরীক্ষাও তত দ্রুত হবে।

সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছন

নিরাপত্তা পরীক্ষা দ্রুত শেষ করার অন্যতম উপায় হলো তাড়াহুড়ো না করা। শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে পৌঁছলে সামান্য দেরিও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরের দেওয়া রিপোর্টিং টাইম মেনে যথেষ্ট আগে পৌঁছনো ভালো।

বিশেষ করে ছুটির মরসুম, সপ্তাহান্ত বা ব্যস্ত সময়ে বিমানবন্দরে ভিড় বেশি থাকতে পারে। তখন নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং চেক-ইন দুই ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।

যাত্রার আগে নিয়ম দেখে নিন

বিমানযাত্রার নিয়ম সব জায়গায় এক নয়। কোন জিনিস কেবিন ব্যাগে রাখা যাবে, কোনটি চেক-ইন ব্যাগে রাখতে হবে, তরল বহনের সীমা কত, ইলেকট্রনিকসের ক্ষেত্রে কী নিয়ম এসব বিষয় বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে পারে।

তাই শুধু অন্য কারও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে নিজের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরের সর্বশেষ নির্দেশিকা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। একটু গোছানো প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতের কাছে রাখা এবং ব্যাগে জিনিসপত্রের সঠিক বিন্যাস এই কয়েকটি অভ্যাসই নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় অযথা ঝামেলা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।