বর্ষার দিনে ভ্রমণের পরিকল্পনা হলে খাবারের বিষয়টি একটু বেশি ভাবতে হয়। বাইরে বৃষ্টি, রাস্তায় যানজট, দীর্ঘ পথ কখন কোথায় খাবার পাওয়া যাবে, তার ঠিক নেই। তার ওপর বাড়ি থেকে লুচি, পরোটা বা ভাত-তরকারি নিয়ে বেরোলেও অনেকক্ষণ পর সেগুলি ভালো থাকার নিশ্চয়তা থাকে না।
ট্রেন কিংবা গাড়িতে কয়েক ঘণ্টার সফরে তাই এমন খাবার সঙ্গে রাখা ভালো, যা তুলনামূলক শুকনো, সহজে খাওয়া যায় এবং বহন করতেও ঝামেলা নেই। বাজারের প্যাকেটজাত বিস্কুট বা চিপসের বদলে চাইলে বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন কিছু মজাদার স্ন্যাক্স। সামান্য প্রস্তুতিতেই তৈরি হয়ে যাবে এমন কয়েকটি খাবার দীর্ঘ সফরে বেশ কাজে আসতে পারে।
ওট্স আর চকোলেটে তৈরি মিষ্টি কামড়
মিষ্টি কিছু খেতে ইচ্ছা করলে তৈরি করতে পারেন নো-বেক চকোলেট ও পিনাট বাটার কুকি। এর জন্য আলাদা করে ওভেনের প্রয়োজন নেই, তাই ভ্রমণের আগে অল্প সময়েই তৈরি করে নেওয়া যায়।
প্রথমে একটি পাত্রে মাখন, চিনি ও কোকো পাউডার গরম করে মিশিয়ে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে তাতে পিনাট বাটার ও ওট্স মিশিয়ে দিন। মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হলে চামচ দিয়ে ছোট ছোট অংশ নিয়ে চ্যাপ্টা করে সাজিয়ে রাখুন। পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে শক্ত হয়ে গেলে কুকিগুলি বায়ুরোধী পাত্রে ভরে নিতে পারেন।
সফরের মাঝখানে চা বা কফির সঙ্গে এই ধরনের কুকি বেশ ভালো সঙ্গী হতে পারে।
প্যাকেটের গ্র্যানোলা নয়, ঘরেই বানান স্ন্যাক বার
দীর্ঘ পথে হালকা খিদে পেলে হাতে তুলে নেওয়ার মতো খাবার চাইলে ওট্স, বাদাম ও ড্রাই ফ্রুট দিয়ে তৈরি বার বানিয়ে রাখতে পারেন।
শুকনো কড়াইয়ে ওট্স ও পছন্দের বাদাম হালকা করে ভেজে নিন। এবার মধু সামান্য গরম করে তার সঙ্গে ওট্স, বাদাম ও ড্রাই ফ্রুট মিশিয়ে নিন। একটি সমতল পাত্রে মিশ্রণটি ঢেলে চামচ বা হাতের সাহায্যে ভালো করে চেপে বসিয়ে দিন।
পুরোপুরি ঠান্ডা হলে পছন্দমতো আকারে কেটে নিন। প্রতিটি বার আলাদা করে ফয়েল বা খাবার রাখার উপযোগী মোড়কে মুড়ে নিলে ব্যাগে রাখা এবং পথে খাওয়ার দুটোই সহজ হবে।
কলার স্বাদে নরম মাফিন
শুধু শুকনো খাবার নয়, একটু নরম ধরনের স্ন্যাক্সও সঙ্গে রাখতে চাইলে কলা দিয়ে মাফিন তৈরি করা যায়। তবে এগুলি তুলনামূলক দ্রুত খাওয়াই ভালো এবং গরম বা আর্দ্র পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ না রাখাই নিরাপদ।
প্রথমে ডিম ফেটিয়ে তার সঙ্গে দুধ ও গলানো মাখন মিশিয়ে নিন। অন্য একটি পাত্রে ময়দা, চিনি, সামান্য নুন, পাকা কলা ও বেকিং পাউডার মিশিয়ে নিন। এরপর শুকনো উপকরণগুলি ধীরে ধীরে ডিম ও দুধের মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করুন।
মাফিনের ছাঁচে ব্যাটার দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ঢেলে ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে প্রায় ২৫ মিনিট বেক করে নিন। ঠান্ডা হওয়ার পর উপরে কুচোনো কাঠবাদাম ছড়িয়ে দিতে পারেন। ভ্রমণে নেওয়ার আগে মাফিনগুলি সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে আলাদা প্যাকেটে রাখুন।
চায়ের সঙ্গে জমবে মেথির মঠরি
ঝাল-নোনতা কিছু পছন্দ হলে মেথি মঠরি হতে পারে ভালো বিকল্প। আটা বা ময়দার সঙ্গে সুজি, জোয়ান, শুকনো বা তাজা মেথি, গোলমরিচ ও নুন মিশিয়ে নিন। তাতে প্রয়োজনমতো তেল দিয়ে শক্ত করে মেখে ছোট ছোট লেচি তৈরি করুন।
প্রতিটি লেচি হাতের তালুতে চেপে চ্যাপ্টা করে কাঁটা চামচ দিয়ে কয়েকটি ছিদ্র করে দিন। এরপর ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে প্রায় ২০ মিনিট বেক করুন। পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার পর বায়ুরোধী পাত্রে রাখলে ভ্রমণের জন্য সহজেই সঙ্গে নেওয়া যায়।
চাইলে বেক করার বদলে অল্প তেলে ভেজেও তৈরি করা যায়। তবে ভ্রমণের জন্য তুলনামূলক হালকা রাখতে বেক করা সংস্করণটি বেছে নেওয়া যেতে পারে।
আলু-সুজির ফিঙ্গার, মুখরোচকও আবার বানানো সহজ
পথে ঝালঝালে কিছু খেতে ইচ্ছা করলে আলু ও সুজি দিয়ে তৈরি ফিঙ্গারও রাখা যায়। প্রথমে সামান্য নুন দিয়ে সুজি জলে রান্না করে নরম মণ্ড তৈরি করুন। দু’টি বড় আলু সেদ্ধ করে ভালো করে চটকে বা গ্রেট করে সেই মণ্ডের সঙ্গে মিশিয়ে দিন।
এর সঙ্গে চিলি ফ্লেক্স, অরিগ্যানো ও সামান্য মাখন যোগ করে ভালো করে মেখে নিন। এবার সরু আঙুলের মতো আকারে তৈরি করে বেকিং ট্রেতে সাজিয়ে দিন। সামান্য তেল ব্রাশ করে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে প্রায় ২০ মিনিট বেক করলেই তৈরি।
তবে এই ধরনের স্ন্যাক্সও সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে তবেই প্যাক করা উচিত। গরম অবস্থায় বদ্ধ পাত্রে রাখলে ভেতরে জলীয় বাষ্প জমে খাবার দ্রুত নরম হয়ে যেতে পারে।
প্যাকিংয়েও একটু সতর্কতা
ভ্রমণের জন্য খাবার তৈরি করলেই কাজ শেষ নয়। খাবার পুরোপুরি ঠান্ডা করে শুকনো ও পরিষ্কার বায়ুরোধী পাত্রে রাখা জরুরি। নরম ও শুকনো খাবার আলাদা করে প্যাক করলে একটির আর্দ্রতা অন্যটিকে নষ্ট করার সম্ভাবনা কমে।
বর্ষাকালে ব্যাগের ভেতরে খাবারের প্যাকেট রাখার সময় জল যাতে না ঢোকে, সেদিকেও নজর দিন। সম্ভব হলে খাবারের পাত্র একটি আলাদা পানিরোধী ব্যাগে রাখুন। দীর্ঘ সময়ের সফরে খুব দ্রুত নষ্ট হয় এমন খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
তাই বর্ষার ভ্রমণে খাবারের ব্যাগ গোছানোর সময় লক্ষ্য থাকুককম ঝামেলা, সহজে খাওয়া যায় এবং যতটা সম্ভব নিরাপদে রাখা যায় এমন খাবার।








