ইতিহাসের নীরব সাক্ষী চাঁপাইনবাবগঞ্জের তাহখানা

প্রাচীন গৌড়ের পথে ঘুরতে গেলে ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের মুখোমুখি হতে হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এমনই এক আকর্ষণ তাহখানা। বড় একটি দীঘির পশ্চিম পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই পুরোনো স্থাপনা শুধু একটি ভবন নয়, মুঘল আমলের স্থাপত্য ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

তাহখানা শব্দটি ফারসি। এর অর্থ ‘ঠান্ডা ভবন’ বা শীতল প্রাসাদ।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র ও বাংলার সুবাদার শাহ সুজার সময়েই এই স্থাপনা নির্মিত হয়। সুফি সাধক শাহ নেয়ামতউল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় অবস্থানের জন্য শাহ সুজা এই প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা। 

তাহখানা কমপ্লেক্সে মূল প্রাসাদের পাশাপাশি রয়েছে একটি তিন গম্বুজের মসজিদ ও একটি গম্বুজবিশিষ্ট সমাধি। স্থাপনাগুলো একই সময় ও উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠায় পুরো এলাকাটিকে একটি কমপ্লেক্স হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে সময়ের ক্ষয়ে এর অনেক অংশ নষ্ট হয়ে গেলেও পুরোনো স্থাপত্যের নানা বৈশিষ্ট্য এখনও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। 

ইটের তৈরি তাহখানা ভবনে দরজা ও স্থাপত্যের কিছু অংশে কালো পাথরের ব্যবহার দেখা যায়। ভবনটির গঠনও বেশ বৈচিত্র্যময়। এক দিক থেকে দেখলে এটি একতলা মনে হলেও অন্য দিক থেকে স্পষ্ট হয় এর দ্বিতল অবয়ব। জলাশয়ের দিকে বাড়ানো নিচতলার অংশ, খিলান, গোসলখানা এবং অষ্টভুজাকৃতির কাঠামো মুঘল স্থাপত্যের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। 

তাহখানার পাশের দীঘিটিও এই ভ্রমণের আলাদা আকর্ষণ। জলাশয়ের তীরে দাঁড়িয়ে পুরোনো স্থাপনার দিকে তাকালে গৌড়ের হারিয়ে যাওয়া সময়ের একটি আবহ অনুভব করা যায়। সরকারি তথ্যেও তাহখানা ও সংলগ্ন স্থাপনাগুলোর দৃশ্য দীঘির পূর্ব তীর থেকে মনোরম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তাহখানা ঘুরতে গেলে কাছাকাছি থাকা আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনাও দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে ছোট সোনা মসজিদ, শাহ নেয়ামতউল্লাহর মাজারসহ গৌড়ের নানা প্রত্ননিদর্শন। ছোট সোনা মসজিদ তাহখানা কমপ্লেক্সের কাছেই অবস্থিত। ফলে একসঙ্গে কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে শিবগঞ্জের দিকে গিয়ে তাহখানা কমপ্লেক্সে পৌঁছানো যায়। ঐতিহাসিক স্থাপত্য, পুরোনো গৌড়ের নিদর্শন এবং নিরিবিলি পরিবেশ সব মিলিয়ে ইতিহাসপ্রেমী ভ্রমণকারীদের জন্য তাহখানা হতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভ্রমণের একটি উল্লেখযোগ্য স্থান।