নিরাপদে ঘুরতে পাঁচ প্রস্তুতি, ভ্রমণ হবে আরও নিশ্চিন্ত

ভ্রমণ মানেই নতুন জায়গা দেখা, পরিচিত গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকে কাছ থেকে জানা। কখনও বন্ধুদের সঙ্গে, কখনও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, আবার কখনও একাই অনেকে বেরিয়ে পড়েন অচেনা গন্তব্যের উদ্দেশে। তবে আনন্দের এই ভ্রমণ যেন বিপদের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেজন্য যাত্রার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

ভ্রমণের সময় দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি পুরোপুরি এড়িয়ে চলার নিশ্চয়তা কোনও টোটকা দিতে পারে না। তবে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে রাখলে এবং কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই ব্যাগ গোছানোর সময় শুধু পোশাক বা ক্যামেরা নয়, নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবুন।

জরুরি ওষুধ রাখুন হাতের কাছে

ভ্রমণের ব্যাগে প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত কোনও ওষুধ খেতে হলে সেটি পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে নিতে হবে। পাশাপাশি ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক, প্রয়োজনীয় ব্যথানাশক ও ব্যক্তিগতভাবে প্রয়োজনীয় কিছু প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী রাখা যেতে পারে।

অচেনা জায়গায় গিয়ে ছোটখাটো অসুস্থতা বা আঘাতের কারণে যাতে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে না যায়, সেজন্য ছোট একটি ফার্স্ট-এইড কিট ব্যাগে রাখা ভালো।

ফোন, চার্জার ও জরুরি নম্বর

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ভ্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। তবে শুধু ফোন সঙ্গে থাকলেই হবে না, সেটির চার্জও নিশ্চিত করতে হবে। সঙ্গে পাওয়ার ব্যাংক ও চার্জার রাখুন। দুর্গম বা অপরিচিত এলাকায় যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় মানচিত্র বা তথ্য ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা যেতে পারে।

পরিবারের সদস্য বা কাছের মানুষের সঙ্গে ভ্রমণ পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য ফেরার সময় জানিয়ে রাখাও ভালো অভ্যাস। জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কিংবা উদ্ধারকারী সংস্থার যোগাযোগ নম্বর হাতের কাছে থাকলে বিপদের সময় দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায়।

আবহাওয়া ও গন্তব্য সম্পর্কে জেনে নিন

যে জায়গায় যাচ্ছেন, সেখানে যাওয়ার আগে আবহাওয়া ও স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। পাহাড়, সমুদ্র, বনাঞ্চল কিংবা দুর্গম এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।

বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে ছাতা বা রেইনকোট, ঠান্ডার এলাকায় প্রয়োজনীয় গরম পোশাক এবং রোদপ্রধান এলাকায় সানস্ক্রিন, টুপি ও পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখা উচিত। আবহাওয়ার কারণে কোনো রাস্তা বা পর্যটনকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হলে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা পরিবর্তন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

যাত্রাপথে সতর্ক থাকুন

গাড়িতে ভ্রমণের সময় সিটবেল্ট ব্যবহার করুন এবং চালককে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে নিরুৎসাহিত করুন। মোটরসাইকেলে গেলে হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করা উচিত। দীর্ঘ যাত্রায় চালকের ক্লান্তি দেখা দিলে বিরতি নেওয়াও জরুরি।

পাহাড়ি এলাকা, নদী বা সমুদ্রের কাছে ছবি তুলতে গিয়ে বিপজ্জনক স্থানে দাঁড়ানো কিংবা নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করা থেকে বিরত থাকুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি বা ভিডিও প্রকাশের চেয়ে নিজের নিরাপত্তাকে সবসময় বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

জরুরি কিছু জিনিস আলাদা ব্যাগে রাখুন

পরিচয়পত্রের কপি, প্রয়োজনীয় টাকা, ব্যাংক কার্ড, ওষুধ, ফোন ও চার্জারসহ জরুরি জিনিস আলাদা একটি ছোট ব্যাগে রাখা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ডিজিটাল কপিও ফোন বা নিরাপদ অনলাইন স্টোরেজে রাখা ভালো।

অনেকে ভ্রমণের সময় হনুমান চালিশা, স্বস্তিক চিহ্ন, কর্পূর বা রুদ্রাক্ষের মতো ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জিনিস সঙ্গে রাখেন। এগুলো মানসিক প্রশান্তি বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ হতে পারে, তবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বা বিপদ থেকে শারীরিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা হিসেবে এগুলোর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। একইভাবে গাড়িতে লেবু-লঙ্কা ঝোলানোর মতো প্রচলিত টোটকার বদলে গাড়ির যান্ত্রিক অবস্থা, চালকের সতর্কতা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলাকেই গুরুত্ব দিতে হবে।

ভ্রমণের আসল আনন্দ তখনই, যখন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে নতুন জায়গা উপভোগ করা যায় এবং সুস্থভাবে বাড়ি ফেরা যায়। তাই ব্যাগ গোছানোর পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তার পরিকল্পনাটাও আগে থেকে করে নিন। একটু বাড়তি প্রস্তুতি আপনার ভ্রমণকে শুধু নিরাপদই করবে না, বরং পুরো যাত্রাটিকে আরও স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় করে তুলবে।