ছয় শতক পেরিয়েও অমলিন বিনত বিবির মসজিদের ঐতিহ্য

পুরান ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের আড়ালে আজও টিকে আছে সুলতানি আমলের নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন। তেমনই এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিনত বিবির মসজিদ। নারিন্দা পুলের কাছে অবস্থিত প্রাচীন এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ঢাকার কয়েকশ বছরের ইতিহাস ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বিনত বিবির মসজিদ নির্মিত হয় ১৪৬৬ সালে। বর্গাকার আকৃতির এই মসজিদের প্রতিটি দেয়াল প্রায় ১৩ হাত লম্বা। একটি গম্বুজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদটির স্থাপত্যে প্রাচীন বাংলার নির্মাণশৈলীর বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে।

শত শত বছর ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্যেও মসজিদটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধরে রেখেছে। পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপনাটি তাই ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের।

বিনত বিবির মসজিদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর নির্মাণের সঙ্গে একজন নারীর নাম জড়িয়ে থাকা। মসজিদের ভেতরের দেয়ালে থাকা শিলালিপি থেকে জানা যায়, মোসাম্মৎ বিনত নামের একজন নারী এটি নির্মাণ করেছিলেন।

পঞ্চদশ শতকে একজন নারীর উদ্যোগে এমন একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণেই মসজিদটি শুধু স্থাপত্যের জন্য নয়, ইতিহাসের একটি বিশেষ অধ্যায়ের স্মারক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

পুরান ঢাকা ঘুরতে গেলে সাধারণত খাবার, বাজার কিংবা ব্যস্ত সড়কের কথাই সবার আগে মনে আসে। কিন্তু এই এলাকার অলিগলিতে ছড়িয়ে রয়েছে বহু পুরোনো স্থাপনা, যেগুলো ঢাকার অতীতকে ধারণ করে আছে। বিনত বিবির মসজিদ সেসব ঐতিহাসিক নিদর্শনের অন্যতম।

মসজিদটির আশপাশের পুরোনো নগর পরিবেশও দর্শনার্থীদের নিয়ে যায় ঢাকার অতীতের এক ভিন্ন সময়ে। ইতিহাস ও স্থাপত্যের প্রতি আগ্রহী ভ্রমণকারীরা এখানে এসে একই সঙ্গে পুরান ঢাকার নগরজীবন ও প্রাচীন স্থাপত্যের স্বাদ নিতে পারেন।

ঢাকার ইতিহাসকে কাছ থেকে জানতে চাইলে বিনত বিবির মসজিদ হতে পারে একটি চমৎকার গন্তব্য। প্রায় ছয়শ বছরের পুরোনো এই স্থাপনা মনে করিয়ে দেয় আধুনিক ঢাকার ব্যস্ততার নিচে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ ইতিহাসের অসংখ্য গল্প।

তাই পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখার পরিকল্পনা থাকলে নারিন্দার বিনত বিবির মসজিদকে রাখতে পারেন আপনার ভ্রমণতালিকায়। একটি ছোট্ট মসজিদের দেয়াল ও স্থাপত্যের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে ঢাকার বহু শতকের ইতিহাসের ছাপ।