শৈশবের কার্টুন চরিত্রদের দেখা মিলবে ব্যাংককের এই মন্দির

ব্যাংকক মানেই প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির, সোনালি স্থাপত্য আর ঐতিহ্যের ছোঁয়া। তবে থাইল্যান্ডের রাজধানীর এমন কিছু মন্দিরও রয়েছে, যেখানে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে গেছে আধুনিক পপ সংস্কৃতি। তেমনই ব্যতিক্রমী এক স্থাপনা হলো চাও ফ্রায়া নদীর তীরে অবস্থিত ওয়াট পারিওয়াত রাচাসংক্রাম। রঙিন দেয়ালচিত্র, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং জনপ্রিয় কার্টুন ও সংস্কৃতির নানা চরিত্রের উপস্থিতির কারণে মন্দিরটি অন্য সব মন্দিরের চেয়ে আলাদা।

ব্যাংককের পরিচিত সোনালি মন্দিরগুলোর তুলনায় ওয়াট পারিওয়াত দর্শনার্থীদের ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দেয়। মন্দিরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা পরিচিত চরিত্র ও আধুনিক শিল্পকর্ম দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, যেন কোনো কার্টুনের জগতে প্রবেশ করেছেন।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি রিল শেয়ার করে সূর্য নামের এক কনটেন্ট নির্মাতা মন্দিরটির এমনই বিচিত্র রূপ তুলে ধরেছেন। মন্দিরে ঘুরে তিনি শৈশবের পরিচিত কার্টুন ও জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর খোঁজে এক ধরনের অনুসন্ধানে নেমেছিলেন। তার সেই অনুসন্ধানে মন্দিরের বিভিন্ন স্থানে পোকেমন-এর পিকাচু, ডিজনির মিকি মাউস ও পিনোকিও, ডিসি কমিকসের সুপারম্যান, মার্ভেল কমিকসের উলভারিন ও ক্যাপ্টেন আমেরিকার মূর্তি চোখে পড়ে। এ ছাড়া পোপাই দ্য সেইলর ম্যানসহ আরও বেশ কিছু পরিচিত চরিত্রের দেখা মেলে।

ভিডিওটি শেয়ার করে ওই কনটেন্ট নির্মাতা জানান, ব্যাংককে ৪৮ ঘণ্টার সফরের মধ্যে এই মন্দিরটি ছিল তার অন্যতম আকর্ষণ। মন্দিরের কাঠামোর বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে থাকা চরিত্রগুলো খুঁজে বের করাকে তিনি মজার এক ‘ট্রেজার হান্ট’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ওয়াট পারিওয়াত রাচাসংক্রাম চাও ফ্রায়া নদীর তীরে অবস্থিত একটি বৌদ্ধ মন্দির। ঐতিহ্যবাহী থাই ধর্মীয় স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক পপ সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সুপারহিরো চরিত্রের চিত্রায়নের সমন্বয়ের কারণে মন্দিরটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আগ্রহের জায়গা হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, ১৮ শতকে চাও ফ্রায়া নদীর তীরে ছোট ও নিরিবিলি একটি বৌদ্ধ আশ্রম হিসেবে মন্দিরটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯ শতকে দক্ষ কারুশিল্পী ফ্রা ফেটফিচাই ও ফ্রা রাচাসংক্রাম মন্দিরটি সংস্কার করেন এবং নতুন নাম দেন। পরবর্তী সময়ে মন্দিরটির ব্যাপক পুনর্নির্মাণ করা হয়। তখন এর শিল্পকর্মে যুক্ত হতে থাকে জনপ্রিয় সংস্কৃতির বিভিন্ন চরিত্র ও কার্টুনের মূর্তি।

মন্দিরটির অন্যতম আলোচিত আকর্ষণ ফুটবল কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যামের সোনালি মূর্তি। ১৯৯০-এর দশকে মূর্তিটি সেখানে স্থাপন করা হয়। এর পর থেকেই মন্দিরটি পর্যটকদের কাছে মজার ছলে ‘ডেভিড বেকহ্যাম টেম্পল’ নামেও পরিচিতি পায়।

প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক জনপ্রিয় সংস্কৃতির এমন মিলনই ওয়াট পারিওয়াতকে অন্যরকম করে তুলেছে। মন্দিরটির শিল্পকর্ম সময়ের সঙ্গে সংস্কৃতি কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং সেই পরিবর্তনের মধ্যেও কীভাবে ঐতিহ্য টিকে থাকতে পারে, সে বিষয়ে দর্শনার্থীদের ভাবার সুযোগ করে দেয়।

তাই ব্যাংকক ভ্রমণে শুধু পরিচিত সোনালি মন্দির ঘুরে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে ওয়াট পারিওয়াত হতে পারে আকর্ষণীয় একটি স্থান। এখানে ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি একসঙ্গে দেখা মিলবে পপ সংস্কৃতি, শিল্প ও সৃজনশীলতার বিচিত্র সমন্বয়।