বিদেশভ্রমণ মানেই মোটা অঙ্কের খরচ এমন ধারণা অনেকেরই। তবে সঠিক গন্তব্য বেছে নিয়ে থাকার ব্যবস্থা, খাবার ও যাতায়াতের খরচ পরিকল্পনা করতে পারলে তুলনামূলক কম বাজেটেও কয়েক দিনের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সম্ভব। সম্প্রতি ভারতের কনটেন্ট নির্মাতা পালক দাবদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন সাতটি দেশের তালিকা দিয়েছেন, যেখানে ভারতীয় পর্যটকেরা প্রায় ৫০ হাজার রুপির (৬৪ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি টাকা) মধ্যে চার থেকে পাঁচ দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারেন বলে তার দাবি।
তালিকায় রয়েছে মধ্য এশিয়ার শহর আলমাটি থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ভুটান, ওমান, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড। তবে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি ভিডিওতে দেওয়া ভিসা ও বিমানভাড়ার হিসাব মূলত ভারত থেকে যাত্রা করা পর্যটকদের ভিত্তিতে। তাই বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণের ক্ষেত্রে খরচ ভিন্ন হতে পারে।
আলমাটি
তালিকার প্রথমেই রয়েছে কাজাখস্তানের আলমাটি। পালক দাবদার হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয় পর্যটকদের জন্য এখানে ভিসার প্রয়োজন হয় না। থাকার জন্য প্রতি রাতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ রুপি যা প্রায় ৩ হাজার ২২৫ বাংলাদেশি টাকা এবং খাবারের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ রুপি খরচ ধরা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৯৩৫ টাকা। ভারত থেকে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া প্রায় ২০ হাজার রুপি যা বাংলাদেশি টাকায় ২৫ হাজার ৮০০ হতে পারে। স্থানীয় যাতায়াত ও অন্যান্য খরচের জন্য প্রতিদিন আরও প্রায় ৩ হাজার রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৮৭০ টাকা বাজেট রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে অবশ্য ভিসার নিয়ম ও ঢাকা থেকে বিমানভাড়া আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
শ্রীলঙ্কা
সমুদ্র, পাহাড়, চা-বাগান ও ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য শ্রীলঙ্কা। পালক দাবদার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয়দের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। থাকার খরচ প্রতি রাতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ রুপি এবং খাবারের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৯৩৫ টাকা।
ভারত থেকে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া প্রায় ১৮ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩ হাজার ২২২ টাকা) এবং স্থানীয় ট্যুরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৮৭০ টাকা) খরচ হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। বাংলাদেশিদের জন্য অবশ্য প্রবেশের অনুমতি, ভিসা এবং বিমানভাড়ার বর্তমান নিয়ম আগে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
মালয়েশিয়া
শহুরে বিনোদন, দ্বীপ, সমুদ্রসৈকত ও বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্য মালয়েশিয়াও বাজেট ভ্রমণকারীদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। পালক দাবদার হিসাবে, থাকার জন্য প্রতি রাতে প্রায় ২ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৫৮০ টাকা) এবং খাবারের জন্য দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ রুপি (১ হাজার ৫৪৮ বাংলাদেশি টাকা) খরচ হতে পারে।
ভারত থেকে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া প্রায় ১৮ হাজার রুপি পর্যন্ত হতে পারে। স্থানীয় যাতায়াত ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচের জন্য প্রতিদিন আরও প্রায় ২ হাজার রুপি ধরা হয়েছে।
ভুটান
বাংলাদেশ থেকে ভুটান ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থলপথের সম্ভাবনা থাকায় এই গন্তব্যটি আলাদা গুরুত্ব পেতে পারে। মূল তালিকার হিসাব অনুযায়ী, ভারতের বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সিতে ভুটান সীমান্তে যাওয়া যায়, ফলে আলাদা করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের প্রয়োজন নেই।
পালক দাবদার হিসাবে ভুটানে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ রুপি (১ হাজার ৫৪৮ বাংলাদেশি টাকা) ভিসা-সংক্রান্ত খরচ, থাকার জন্য সর্বোচ্চ ৩ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৮৭০ টাকা) এবং খাবারের জন্য প্রায় ১ হাজার ২০০ রুপি (১ হাজার ৫৪৮ বাংলাদেশি টাকা) লাগতে পারে। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরতে ডে-ট্যুরে প্রতিদিন অন্তত ৩ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৮৭০ টাকা) বাজেট রাখার কথাও বলেছেন তিনি।
তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম আলাদা হতে পারে। ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি।
ওমান
মধ্যপ্রাচ্যের ভিন্ন স্বাদ পেতে চাইলে তালিকায় রয়েছে ওমান। পালক দাবদার দেওয়া হিসাবে, ই-ভিসার জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ রুপি (২ হাজার ১৯৩ বাংলাদেশি টাকা) খরচ হতে পারে। থাকার জন্য প্রতি রাতে প্রায় ৩ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৮৭০ টাকা) এবং খাবারের জন্য দৈনিক ১ হাজার ৫০০ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৯৩৫ টাকা) ধরা হয়েছে।
ভারত থেকে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া আনুমানিক ১৫ হাজার রুপি (১৯ হাজার ৩৫০ বাংলাদেশি টাকা) এবং স্থানীয় ডে-ট্যুরের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৮৭০ টাকা) খরচ হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
কম্বোডিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম্বোডিয়াও রয়েছে তালিকায়। এখানে ভিসা অন অ্যারাইভালের জন্য প্রায় ২ হাজার ৭০০ রুপি (৩ হাজার ৪৮৩ বাংলাদেশি টাকা) খরচ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। থাকার খরচ প্রতি রাতে প্রায় ২ হাজার রুপি (২ হাজার ৫৮০ বাংলাদেশি টাকা) এবং খাবারের জন্য দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ রুপি (১ হাজার ৫৪৮ বাংলাদেশি টাকা) ধরা হয়েছে।
ভারত থেকে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া প্রায় ২৩ হাজার রুপি (২৯ হাজার ৬৭০ বাংলাদেশি টাকা) হতে পারে। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে ডে-ট্যুরের জন্য প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ রুপি (৩ হাজার ২২৫ বাংলাদেশি টাকা) আলাদা করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ড
তালিকার শেষ গন্তব্য থাইল্যান্ড। ভারতীয় পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধার কথা উল্লেখ করেছেন পালক দাবদা। তার হিসাবে, থাকার জন্য প্রতি রাতে প্রায় ২ হাজার রুপি (২ হাজার ৫৮০ বাংলাদেশি টাকা) এবং খাবারের জন্য দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ রুপি (১ হাজার ৫৪৮ বাংলাদেশি টাকা) খরচ হতে পারে।
ভারত থেকে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া আনুমানিক ১৫ হাজার রুপি (১৯ হাজার ৩৫০ বাংলাদেশি টাকা) এবং ডে-ট্যুরের জন্য প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার রুপি (২ হাজার ৫৮০ বাংলাদেশি টাকা) খরচ হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
কম বাজেটে বিদেশে কয়েক দিনের ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করলে এই সাতটি গন্তব্য থেকে ধারণা নেওয়া যেতে পারে। তবে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য মোট খরচ নির্ভর করবে ঢাকা থেকে বিমানভাড়া, ভিসা বা প্রবেশের অনুমতি, মুদ্রার বিনিময় হার, থাকার মান এবং ভ্রমণের সময়ের ওপর। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আনুমানিক হিসাবকে চূড়ান্ত বাজেট না ধরে, টিকিট ও ভিসা বুক করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম ও খরচ যাচাই করাই বুদ্ধিমানের কাজ।









