ভারত ভ্রমণে চণ্ডীগড় যাচ্ছেন? জানুন ট্রেনযাত্রায় ৩৬ দিনের বাড়তি সতর্কতা

ভারতে ঘুরতে গিয়ে চণ্ডীগড়, কালকা, অমৃতসর কিংবা দিল্লির পথে ট্রেনে যাতায়াতের পরিকল্পনা করছেন? তাহলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের ভ্রমণসূচি করার আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ একটি আপডেট। চণ্ডীগড় রেলস্টেশনে উন্নয়নকাজের কারণে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ৩৬ দিন ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের পরিবর্তন থাকবে।

এই সময়ে ধাপে ধাপে স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও রেললাইন বন্ধ রাখা হবে। সব মিলিয়ে ৪৪২টি ট্রেন চলাচল বাতিল, ৭৬টি ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন এবং কয়েকটি ট্রেনের রুট ও যাত্রাপথে পরিবর্তন আনা হবে। ফলে বাংলাদেশ থেকে ভারত ভ্রমণে গিয়ে এই সময় চণ্ডীগড় বা আশপাশের এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগেভাগেই রেলযাত্রার বিষয়টি যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

চণ্ডীগড় রেলস্টেশনের উন্নয়নকাজের মধ্যে রয়েছে নতুন ছাদ নির্মাণ এবং পুরোনো ফুট ওভারব্রিজ ভেঙে ফেলার কাজ। এ কারণে একবারে পুরো স্টেশন বন্ধ না করে ১২ দিন করে তিন ধাপে বিভিন্ন লাইন ও প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম সীমিত রাখা হবে।

বাংলাদেশিদের জন্য কেন জানা দরকার

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া পর্যটকদের অনেকেই দিল্লি হয়ে উত্তর ভারতের বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করেন। কেউ চণ্ডীগড় ঘুরতে যান, কেউ সেখান থেকে কালকা হয়ে পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। আবার অমৃতসর বা দিল্লির সঙ্গেও চণ্ডীগড়ের রেল যোগাযোগ ব্যবহার করেন অনেকে।

এই সময়ে টিকিট কেটে ফেললেই যাত্রা নিশ্চিত এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আপনার নির্ধারিত ট্রেন বাতিল হয়েছে কি না, যাত্রার স্টেশন বদলেছে কি না কিংবা প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন হয়েছে কি না, যাত্রার আগে অবশ্যই দেখে নিতে হবে।

বিশেষ করে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য একটি বাড়তি বিষয় হলো বিকল্প পরিবহনের সময় ও খরচ আগে থেকে হিসাব করে রাখা। ট্রেন বাতিল হলে শেষ মুহূর্তে বাস বা গাড়ি খুঁজতে গিয়ে সময় ও খরচ দুটিই বেড়ে যেতে পারে।

তিন ধাপে বদলাবে স্টেশনের চিত্র

১০ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপে প্ল্যাটফর্ম ৫-এর লাইন ৬ এবং প্ল্যাটফর্ম ৬-এর লাইন ৭ ও ৮ বন্ধ থাকবে।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে বন্ধ থাকবে প্ল্যাটফর্ম ৩-এর লাইন ৪ এবং প্ল্যাটফর্ম ৪-এর লাইন ৫।

শেষ ধাপে, অর্থাৎ ৪ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রভাব পড়বে ১, ২ ও ৩ নম্বর লাইনে।

অর্থাৎ, একই স্টেশনে গেলেও আগের মতো নিজের পরিচিত প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে চলবে না। যাত্রার দিন স্টেশনে পৌঁছে ডিজিটাল বোর্ডে ট্রেনের সর্বশেষ প্ল্যাটফর্ম দেখে নেওয়া ভালো।

বাতিল হচ্ছে ৪৪২টি ট্রেন

এই ৩৬ দিনের মধ্যে মোট ৪৪২টি ট্রেন চলাচল বাতিল করার কথা রয়েছে। এর প্রভাব পড়বে দিল্লি–কালকা, চণ্ডীগড়–অমৃতসর, চণ্ডীগড়–ফিরোজপুর, আম্বালা–জালন্ধর সিটি, আম্বালা–দিল্লি ও আম্বালা–কালকা রুটে।

কিছু ট্রেন আবার চণ্ডীগড়ে না গিয়ে আম্বালা ক্যান্টনমেন্টে যাত্রা শেষ করবে বা সেখান থেকেই যাত্রা শুরু করবে। ফলে চণ্ডীগড়ের টিকিট হাতে থাকলেও শেষ মুহূর্তে যাত্রার পরিকল্পনা বদলাতে হতে পারে।

৩ ও ১০ অক্টোবর লুধিয়ানা–অমৃতসর রুটের দুটি ট্রেনকে সিরহিন্দ হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।

৭৬টি ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম বদলাবে

ট্রেন বাতিলের পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। কাজ চলাকালে ৭৬টি ট্রেন নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মের বদলে অন্য প্ল্যাটফর্মে চলাচল করবে।

এই তালিকায় রয়েছে দিল্লিগামী শতাব্দী এক্সপ্রেস, আজমের–চণ্ডীগড় বন্দে ভারত এবং হাওড়া–কালকা মেলের মতো পরিচিত ট্রেনও।

তাই ভ্রমণের দিন হাতে একটু অতিরিক্ত সময় নিয়ে স্টেশনে পৌঁছানো ভালো। বিশেষ করে বড় লাগেজ থাকলে শেষ মুহূর্তে প্ল্যাটফর্ম বদলানো বেশ ঝামেলার হতে পারে।

চণ্ডীগড়ের বদলে মোহালিও হতে পারে গন্তব্য

চণ্ডীগড় স্টেশনে চাপ কমাতে আটটি দূরপাল্লার ট্রেনকে সাময়িকভাবে এসএএসএন মোহালি স্টেশনে স্টপেজ দেওয়া হবে।

এ কারণে টিকিটে চণ্ডীগড় লেখা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থান ও স্টপেজ আগে দেখে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে মোহালি থেকে হোটেল বা পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার জন্য স্থানীয় পরিবহনের ব্যবস্থাও আগে থেকে ভেবে রাখা ভালো।

ভ্রমণের আগে যা করবেন

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার আগে শুধু ট্রেনের টিকিট কেটে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকবেন না। চণ্ডীগড় রুটে যাত্রা থাকলে ভ্রমণের আগের দিন এবং যাত্রার দিন ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করুন।

আপনার ট্রেন বাতিল হয়েছে কি না, কোথা থেকে ছাড়বে, কোন প্ল্যাটফর্মে যাবে এবং মাঝপথে কোনও পরিবর্তন হয়েছে কি না সবকিছু জেনে নিন। প্রয়োজনে বিকল্প ট্রেন, বাস বা গাড়ির ব্যবস্থাও মাথায় রাখুন।

আরেকটি বিষয়, ভারত ভ্রমণের পুরো পরিকল্পনা যদি ট্রেননির্ভর হয়, তাহলে চণ্ডীগড়ের এই ৩৬ দিনের বিঘ্নকে মাথায় রেখে একটু বেশি সময় হাতে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ একটি ট্রেন বাতিল বা রুট পরিবর্তনের প্রভাব পরের গন্তব্যের হোটেল, দর্শনীয় স্থান বা সংযোগকারী ট্রেনের সময়সূচির ওপরও পড়তে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে চণ্ডীগড় রুটে ভ্রমণ করলে পুরোনো রেলসূচির ওপর ভরসা করবেন না। যাত্রার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন। কয়েক মিনিটের এই সতর্কতাই ভারত ভ্রমণের পথে বড় ধরনের ভোগান্তি থেকে বাঁচাতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি