ভারত ভ্রমণে দিল্লি থেকে মিরাট কিংবা উত্তর ভারতের অন্য কোনও স্থানে সড়কপথে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে নতুন একটি নিয়ম জেনে রাখা ভালো। দিল্লি–মিরাট এক্সপ্রেসওয়েতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে সময় ও সড়কের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তনশীল গতিসীমা ব্যবস্থা। ফলে আগের মতো সারাদিন একই গতিতে গাড়ি চালানোর সুযোগ থাকছে না।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে যারা গাড়ি ভাড়া করে দিল্লি ও আশপাশের বিভিন্ন শহরে ঘোরেন, বিশেষ করে মিরাট, হরিদ্বার বা উত্তর ভারতের অন্য স্থানে সড়কপথে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাদের জন্য বিষয়টি কাজে লাগতে পারে। তবে সাধারণ দিল্লি শহরভ্রমণে বের হওয়া পর্যটকদের এ নিয়ে খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই।
‘বিজনেস টুডে’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো দিনের বিভিন্ন সময়ে যান চলাচলের চাপ ও সড়কের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গতিসীমা নির্ধারণ করা। অর্থাৎ, রাস্তা ফাঁকা থাকলেই ইচ্ছেমতো গতি বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট সময়ে যে সীমা কার্যকর থাকবে, সেটিই মানতে হবে।
রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ব্যক্তিগত গাড়ির সর্বোচ্চ গতি রাখা হয়েছে ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার। একই সময়ে ভারী যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার।
অন্যদিকে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দিনের ব্যস্ত সময়ে ব্যক্তিগত গাড়ির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার এবং ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে ৪৫ কিলোমিটার। ফলে দিনের কোন সময়ে এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রা করছেন, তার ওপরও নির্ভর করবে সর্বোচ্চ কত গতিতে গাড়ি চলতে পারবে।
নতুন নিয়ম বুঝতে চালকদের সুবিধার জন্য এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে ডিজিটাল গতিসীমা প্রদর্শন বোর্ড। তাই গাড়িতে বসেই নির্দিষ্ট সময়ে কার্যকর গতিসীমা দেখে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
শুধু বোর্ড বসিয়েই অবশ্য দায়িত্ব শেষ করেনি কর্তৃপক্ষ। সড়কে স্থাপন করা সেন্সরের মাধ্যমে যানবাহনের গতি ও চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হবে, নতুন ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে। প্রায় তিন মাস পর পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাটির ফলাফল পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।
উৎসবের সময় এই পথে বাড়তি ভিড়ের বিষয়টিও মাথায় রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি রাখিবন্ধন উৎসবকে কেন্দ্র করে দিল্লি–মিরাট এক্সপ্রেসওয়েতে ব্যাপক যানজট দেখা যায়। ঘরমুখী মানুষের ভিড়ে অনেক জায়গায় গাড়ির গতি প্রায় থেমে যায়। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত ধীরগতির যান চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েন বহু যাত্রী।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য এর মানে কী? দিল্লি থেকে মিরাট বা আশপাশের এলাকায় গাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে চালককে নতুন গতিসীমা সম্পর্কে আগেই জানিয়ে রাখা ভালো। বিশেষ করে উৎসব, ছুটির দিন কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির সময়ে যাত্রা করলে হাতে অতিরিক্ত সময় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ গতিসীমার পাশাপাশি অতিরিক্ত যানজটও যাত্রার সময় বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাই দিল্লি ভ্রমণের তালিকায় যদি শুধু লালকেল্লা, ইন্ডিয়া গেট আর কুতুব মিনার থাকে, তাহলে নতুন এই নিয়ম নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু দিল্লি থেকে গাড়ি নিয়ে আরও দূরে ঘোরার পরিকল্পনা থাকলে বিষয়টি অবশ্যই মনে রাখুন ভারতের এক্সপ্রেসওয়েতে শুধু গন্তব্য জানলেই হবে না, কখন যাচ্ছেন আর কত গতিতে যাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: এনডিটিভি









