ভ্রমণ মানেই শুধু নতুন জায়গা দেখা নয়, সেই মুহূর্তগুলো ছবিতে ধরে রাখাও। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ভ্রমণের ছবি এখন অনেকের কাছেই স্মৃতি ধরে রাখার পাশাপাশি নিজের ভ্রমণ-গল্প বলার অন্যতম মাধ্যম।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি এ ক্ষেত্রে হতে পারে দারুণ এক স্থান। ঝকঝকে আধুনিক স্থাপত্য, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, সোনালি মরুভূমি, নীল সমুদ্র, সবুজ ম্যানগ্রোভ আর চোখধাঁধানো শিল্পকর্মের জন্য শহরটিতে রয়েছে নানা ধরনের ফ্রেম।
পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে আবুধাবি ঘুরতে গেলে কোন জায়গাগুলো ছবি তোলার তালিকায় রাখবেন? দেখে নেওয়া যাক সোশ্যাল মিডিয়া ফিডে নজর কাড়তে পারে এমন ১০টি ফটোস্পট।
১.
আবুধাবি ভ্রমণে শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ যেন অবশ্যই রাখার মতো একটি নাম। সাদা মার্বেলের ৮২টি গম্বুজ, নকশাদার স্তম্ভ, বিশাল জলাধারে স্থাপত্যের প্রতিবিম্ব—সব মিলিয়ে মসজিদের প্রায় প্রতিটি কোণই ছবি তোলার জন্য আকর্ষণীয়।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতে বোনা কার্পেটও রয়েছে এখানে। সূর্যাস্তের সময় গেলে মার্বেলের ওপর পড়া সোনালি আলো ছবিতে যোগ করবে বাড়তি সৌন্দর্য।
২. টিমল্যাব ফেনোমেনা আবুধাবি
সাদিয়াত কালচারাল ডিস্ট্রিক্টের টিমল্যাব ফেনোমেনা আবুধাবি শিল্প ও প্রযুক্তির এক অভিনব মেলবন্ধন। আলো, পানি ও রঙের পরিবর্তনশীল ইনস্টলেশন দর্শনার্থীর নড়াচড়া ও স্পর্শের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ফলে এখানে তোলা ছবি বা ভিডিও প্রতিবারই হতে পারে আলাদা। অদ্ভুত, রঙিন ও স্বপ্নের মতো ভিজ্যুয়াল পছন্দ করলে জায়গাটি আপনার তালিকায় থাকতেই পারে।
৩. জুবাইল ম্যানগ্রোভ পার্ক
শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে প্রকৃতির কাছে যেতে চাইলে চলে যান জুবাইল ম্যানগ্রোভ পার্কে। সাদিয়াত ও ইয়াস আইল্যান্ডের মাঝামাঝি এই পার্কে কাঠের ওয়াকওয়ে ধরে ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর দিয়ে হাঁটার সুযোগ রয়েছে।
পানিতে গাছের প্রতিবিম্ব, স্থানীয় পাখি ও বন্যপ্রাণী কিংবা কায়াকিংয়ের মুহূর্ত সবই হতে পারে দারুণ ফ্রেম। ভোরে গেলে সূর্যোদয়ের আলোয় পাওয়া যাবে আরও সুন্দর পরিবেশ।
৪. সাদিয়াত বিচ ক্লাব
সমুদ্র, সাদা বালু আর নীল আকাশ এক ফ্রেমে এমন দৃশ্য চাইলে সাদিয়াত বিচ ক্লাব হতে পারে আপনার গন্তব্য। ইনফিনিটি পুলের পাশ থেকে ছবি তুললে পেছনে ধরা পড়বে নীল সমুদ্র ও সাদা সৈকত।
স্টাইলিশ কাবানা আর সারি সারি পামগাছ পুরো পরিবেশে যোগ করে অবকাশযাপনের আমেজ। ভাগ্য ভালো থাকলে উপসাগরে ডলফিন কিংবা সৈকতে হকসবিল কচ্ছপও দেখা মিলতে পারে।
৫. লুভর আবুধাবি
লুভর আবুধাবি শুধু শিল্পকর্মের জন্য নয়, এর অনন্য স্থাপত্যের কারণেও দর্শনীয়। স্থপতি জ্যাঁ নুভেলের নকশা করা বিশাল রুপালি গম্বুজটি ৭ হাজার ৮৫০টি ধাতব তারার সমন্বয়ে তৈরি।
গম্বুজের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো মেঝে ও পানির ওপর পড়লে তৈরি হয় বিখ্যাত ‘আলোর বৃষ্টি’। এই আলো-ছায়ার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরতে সূর্যের অবস্থান মাথায় রেখে সময় নির্বাচন করুন।
৬. আল আইন ওয়েসিস
শহুরে স্থাপত্যের বাইরে একটু সবুজ পরিবেশ চাইলে আল আইন ওয়েসিস হতে পারে চমৎকার পছন্দ। প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত এই মরূদ্যানে রয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজারেরও বেশি খেজুরগাছ।
খেজুরগাছের ছায়ায় হাঁটা বা সাইকেল চালানোর সময় পাতার ফাঁক দিয়ে আসা সূর্যের আলো তৈরি করে দারুণ আলো-ছায়া। ঐতিহ্যবাহী ফালাজ সেচব্যবস্থার খাল ও সবুজ পথও ছবিতে যোগ করবে আলাদা মাত্রা।
৭. এমিরেটস প্যালেস ম্যান্ডারিন ওরিয়েন্টাল
রাজকীয় পরিবেশে ছবি তুলতে চাইলে এমিরেটস প্যালেস ম্যান্ডারিন ওরিয়েন্টাল নজরে রাখতে পারেন। সোনালি গম্বুজ, বিশাল প্রবেশপথ, ঝাড়বাতি ও বিলাসবহুল অভ্যন্তর—সবকিছুতেই রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ।
প্রবেশপথের ফোয়ারা কিংবা খিলানের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পারেন। আর সুযোগ হলে ২৪ ক্যারেট সোনার গুঁড়া দেওয়া বিখ্যাত ক্যাপুচিনো দিয়ে তুলতে পারেন একটি বিলাসী ফ্ল্যাট-লে ছবি।
৮. কাসর আল সারাব ডেজার্ট রিসোর্ট
রূপকথার মতো মরুভূমির দৃশ্য দেখতে চাইলে কাসর আল সারাব ডেজার্ট রিসোর্ট বাই আনান্তারা হতে পারে আদর্শ জায়গা। এম্পটি কোয়ার্টারের বিশাল সোনালি বালিয়াড়ির মাঝে অবস্থিত এই রিসোর্টের চারপাশের দৃশ্যই যেন সিনেমার সেট।
সূর্যোদয়ে বালিয়াড়ির ওপর সিলুয়েট ছবি, রিসোর্টের পুলের পাশে রিল্যাক্সড শট কিংবা সূর্যাস্তের সময় উটের পিঠে ছবি—সবই সোশ্যাল মিডিয়া ফিডে আলাদা নজর কাড়তে পারে।
৯. কাসর আল হোসন
একদিকে ইতিহাস, অন্যদিকে আধুনিক শহর এই দুইয়ের মেলবন্ধন দেখতে চাইলে কাসর আল হোসন ঘুরে দেখুন। আবুধাবির অন্যতম প্রাচীন স্থাপনা এই ঐতিহাসিক দুর্গ ও ওয়াচটাওয়ারের চারপাশে এখন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক ভবন।
সূর্যাস্তের সময় পুরোনো স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুললে পেছনে পাওয়া যাবে আধুনিক আবুধাবির আকাশরেখা। আকাশের কমলা-হলুদ আভা সেই ছবিকে করে তুলতে পারে আরও আকর্ষণীয়।
১০. আল কানা
দিনের শেষে একটু আরাম করে সময় কাটানোর পাশাপাশি ছবি তুলতে চাইলে আল কানা হতে পারে সুন্দর একটি জায়গা। প্রাণবন্ত এই ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় রয়েছে রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, বিনোদনের নানা আয়োজন ও হাঁটার সুন্দর পথ।
খালের পানিতে শহরের আলোর প্রতিফলন, ক্যাফেতে কফির কাপ হাতে ছবি কিংবা বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবারের মুহূর্ত সবই ক্যামেরাবন্দি করা যায়। পেছনে দ্য ন্যাশনাল অ্যাকুয়ারিয়াম থাকায় সন্ধ্যার সময় এখানকার পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
ছবি তোলার আগে ছোট্ট কিছু টিপস
আবুধাবির ফটোস্পটগুলোতে ভালো ছবি পেতে সকাল বা বিকেলের নরম আলো বেছে নিতে পারেন। ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থানে ছবি তোলার সময় স্থানীয় পোশাক ও আচরণবিধির প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। আর জনপ্রিয় কোনো স্থানে যাওয়ার আগে ছবি তোলার অনুমতি, প্রবেশের নিয়ম ও সময়সূচি দেখে নিলে ভ্রমণের সময় ঝামেলা কম হবে।
এক ভ্রমণেই শহর, সমুদ্র, মরুভূমি, ম্যানগ্রোভ, ইতিহাস ও আধুনিক স্থাপত্য সবকিছুর ছবি তুলে রাখতে চাইলে আবুধাবি আপনার ট্রাভেল ফিডে বৈচিত্র্য আনার মতো একটি গন্তব্য হতে পারে।