রাতের আকাশজুড়ে সবুজ, নীল কিংবা গোলাপি আলোর নাচন- মেরুজ্যোতি দেখার এই অভিজ্ঞতা ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে স্বপ্নের মতো। সাধারণত নরওয়ে, ফিনল্যান্ড বা আইসল্যান্ডের মতো দেশের কথা সামনে এলেও তুলনামূলক কম খরচে এই দৃশ্য দেখার জন্য রাশিয়ার মুরমানস্কের কথাও ভাবা যায়। ভ্রমণবিষয়ক নির্মাতা অঙ্কিতা কুমারের সাম্প্রতিক ভ্রমণবিবরণে উঠে এসেছে শহরটির নানা দিক।
মুরমানস্কে পৌঁছনোর আগে খরচের হিসাব
ভারত থেকে মুরমানস্ক যাওয়া-আসার বিমানভাড়া আগাম পরিকল্পনা করলে প্রায় ৬০ হাজার ভারতীয় রুপি, অর্থাৎ আনুমানিক ৭৭ হাজার টাকা হতে পারে। তবে বাংলাদেশের যাত্রীদের ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে যাতায়াতের পথ ও ভাড়া আলাদা হবে। বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের রাশিয়ায় যেতে নিয়মিত ভিসা প্রয়োজন, একক ই-ভিসার সুবিধা বর্তমানে তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
মুরমানস্কে থাকার খরচও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখা যায়। সাধারণ মানের হোটেলে এক রাতের খরচ ভারতীয় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার রুপি, অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকা। একটু উন্নত মানের হোটেলে থাকতে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৬ হাজার ৪০০ থেকে ৭ হাজার ৭০০ টাকা লাগতে পারে।
মেরুজ্যোতির অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করতে বরফঘেরা কাচের গম্বুজের মতো আবাসনেও রাত কাটানোর সুযোগ রয়েছে। তবে শীতের মৌসুমে এর খরচ সাধারণ থাকার জায়গার তুলনায় বেশি হতে পারে।
শুধু আকাশের আলো নয়, আরও কিছু দেখার আছে
মুরমানস্কে গিয়ে শুধু মেরুজ্যোতির অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে না। বল্গাহরিণের খামার ঘুরে দেখা, বরফের ওপর কুকুরের টানা স্লেজে চড়া কিংবা আর্কটিক অঞ্চলের বিশেষ শীতকালীন অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রাণীদের সঙ্গে কোনো আয়োজন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও প্রাণীবান্ধব প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া জরুরি।
বরফশীতল পানিতে সাঁতার কাটার মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সুযোগও রয়েছে। তবে এমন কার্যক্রমে স্থানীয় নিরাপত্তাবিধি এবং প্রশিক্ষিত সহায়তা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মুরমানস্ক ভ্রমণের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি আগে থেকে পরিকল্পনা করা দরকার। আন্তর্জাতিক ব্যাংক কার্ড সব জায়গায় কাজ নাও করতে পারে, তাই প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের ব্যবস্থা রাখা সুবিধাজনক। যোগাযোগের ক্ষেত্রেও স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
নিরামিষ খাবারে অভ্যস্ত হলে খাবারের ব্যবস্থা নিয়েও আগাম খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে সঙ্গে কিছু শুকনো বা সহজে খাওয়া যায় এমন খাবার রাখা যেতে পারে।
মুরমানস্কের শীত অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। তাই পোশাক, চলাফেরা, মেরুজ্যোতি দেখার স্থান এবং স্থানীয় যাতায়াত সম্পর্কে ধারণা নিতে অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইডের সহায়তা নিলে ভ্রমণটি আরও সহজে পরিকল্পনা করা সম্ভব।