বাংলা কবিতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নাম কবি আহসান হাবীব। তাঁর জন্মভিটা ঘিরে পিরোজপুরের শঙ্করপাশা গ্রামে। সেখানে আজও ছড়িয়ে আছে তাঁর স্মৃতির নানা চিহ্ন। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে সবুজে ঘেরা এই গ্রামীণ পরিবেশে যেতে পারেন সাহিত্য ও ইতিহাসপ্রেমী ভ্রমণকারীরা।
১৯১৭ সালে পিরোজপুরের শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আহসান হাবীব। তাঁর পৈতৃক বাড়িটি পিরোজপুর-চরখালী সড়কের বেলতলা এলাকা থেকে সরু পথ ধরে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। স্থানীয় সড়কের শেষ অংশ পেরিয়ে গ্রামীণ পথ ধরে পৌঁছানো যায় বাড়িটিতে।
বাড়ির চারপাশে রয়েছে গাছপালা ও গ্রামের স্বাভাবিক পরিবেশ। প্রকাশিত একটি ভ্রমণ প্রতিবেদনে বাড়িটি প্রায় তিন বিঘা জায়গার ওপর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে উঠান ও কয়েকটি ঘরের পাশাপাশি রয়েছে পুরোনো গ্রামীণ বাড়ির আবহ।
কবির জন্মভিটায় যাওয়ার পথে বেলতলা এলাকায় তাঁর নামে একটি স্মৃতিফলকও রয়েছে। সেখান থেকে সরু রাস্তা ধরে এগোলেই পৈতৃক বাড়ির এলাকায় পৌঁছানো যায়।
আহসান হাবীবের শৈশব ও কৈশোরের সঙ্গে এই গ্রামের সম্পর্ক গভীর। পিরোজপুরের স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তাঁর লেখালেখির শুরু। পরে বরিশালের বিএম কলেজে ভর্তি হলেও আর্থিক কারণে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। কর্মজীবনে সাংবাদিকতা ও সাহিত্য সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
তাঁর জন্মভিটা বর্তমানে বড় কোনও পর্যটনকেন্দ্রের মতো সাজানো নয়। তাই সেখানে গেলে একটি সাহিত্যিকের শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতাই হবে ভ্রমণের মূল আকর্ষণ। একই সঙ্গে গ্রামীণ পিরোজপুরের প্রকৃতি ও স্থানীয় জীবনযাত্রাও কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলবে।
কীভাবে যাবেন
পিরোজপুর শহর থেকে শঙ্করপাশার দিকে যেতে হবে। পিরোজপুর-চরখালী সড়কের বেলতলা এলাকায় নেমে সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহন বা পায়ে হেঁটে সরু পথ ধরে কবির বাড়ির দিকে যাওয়া যায়। শেষ অংশের রাস্তা সব জায়গায় পাকা নয় বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে পথ জেনে নেওয়া সুবিধাজনক।
সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য পিরোজপুর ভ্রমণের তালিকায় আহসান হাবীবের জন্মভিটা যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে কবির জীবন ও সৃষ্টির সঙ্গে তাঁর জন্মভূমির সম্পর্ক জানতে চাইলে এই নিরিবিলি গ্রামবাড়ি হয়ে উঠতে পারে একটি স্মরণীয় স্থান।