আকাশে মেঘ দেখলেই সতর্ক হন বিমানচালকেরা, লুকিয়ে থাকে যেসব ঝুঁকি

আকাশে মেঘ দেখা বিমানযাত্রার স্বাভাবিক দৃশ্য। তবে সব মেঘ এক রকম নয়। কিছু মেঘের ভেতরের আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি বিমানের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই আকাশে এমন মেঘের উপস্থিতি থাকলে বিমানচালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বিমানের যন্ত্রপাতির তথ্য এবং নির্ধারিত আকাশপথ সবকিছুই তখন আরও সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বিমানচালকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিগুলোর একটি হলো বজ্রগর্ভ মেঘ। এ ধরনের মেঘের মধ্যে প্রবল বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং তীব্র বায়ুপ্রবাহ থাকতে পারে। এর মধ্যে দিয়ে বিমান চলাচল করলে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি তৈরি হতে পারে। বজ্রপাতের কারণে বিমানের বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

শুধু বজ্রপাত নয়, ঘন মেঘের কারণে দৃশ্যমানতাও কমে যেতে পারে। তখন বাইরে থেকে চারপাশের পরিস্থিতি বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। বিমানচালকদের বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রের তথ্যের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়। ফলে মেঘের ঘনত্ব ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী উড়ানপথ পরিবর্তন বা অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

উঁচু আকাশে মেঘের সঙ্গে আরেকটি ঝুঁকি হলো বরফ জমে যাওয়া। বিমানের ডানা বা গুরুত্বপূর্ণ অংশে বরফ জমলে বিমানের ওজন বাড়ার পাশাপাশি বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহেও বাধা তৈরি হতে পারে। এতে বিমানের আকাশে ওড়ার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া মেঘের ভেতর বা আশপাশে তীব্র বায়ুপ্রবাহ ও আকস্মিক বায়ুর পরিবর্তনও বিমানকে ঝাঁকুনি দিতে পারে। কখনও হঠাৎ বিমান নিচে নেমে আসতে পারে বা নির্ধারিত উচ্চতা ও গতিপথ ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এই কারণেই মেঘ দেখলেই বিমানচালকেরা আতঙ্কিত হন বিষয়টি এমন নয়। বরং নির্দিষ্ট ধরনের মেঘ ও তার সঙ্গে থাকা আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি শনাক্ত করেই তারা প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেন। আধুনিক বিমান ব্যবস্থায় আবহাওয়ার তথ্য, রাডার ও অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্যে ঝুঁকিপূর্ণ মেঘ শনাক্ত করা হয়। প্রয়োজন হলে সেই মেঘ এড়িয়ে অন্য পথে বিমান পরিচালনা করাও সম্ভব।

তাই জানালার বাইরে ঘন মেঘ দেখে যাত্রীরা যতটা না চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বুঝে নেওয়া কোন মেঘ শুধু আকাশের সৌন্দর্য আর কোন মেঘের ভেতরে রয়েছে ঝড়, বজ্রপাত ও তীব্র বায়ুর মতো ঝুঁকি।