ট্রেনে ওয়াশরুম ব্যবহারে সংক্রমণ এড়াবেন কীভাবে?

লম্বা ট্রেন সফরে ওয়াশরুম ব্যবহার নিয়ে অনেকেরই অস্বস্তি থাকে। একই ওয়াশরুম বহু যাত্রী ব্যবহার করেন। নিয়মিত পরিষ্কার না হলে বা পর্যাপ্ত পানি না থাকলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই আশঙ্কায় অনেকে ট্রেনে ওঠার পর পানি খাওয়া কমিয়ে দেন, এমনকি প্রস্রাবের বেগ হলেও ওয়াশরুমে যেতে চান না। কিন্তু এই অভ্যাস শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি না খেলে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখাও অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই সংক্রমণের ভয়ে পানি খাওয়া কমানো বা ওয়াশরুমে যাওয়া এড়িয়ে চলা ঠিক নয়। বরং কয়েকটি সহজ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ট্রেন সফরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হয়।

১. সঙ্গে রাখুন সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ

ট্রেন সফরের ব্যাগে ছোট সাবান, সাবান-কাগজ বা ভ্রমণের উপযোগী হ্যান্ডওয়াশ রাখতে পারেন। ওয়াশরুম ব্যবহারের পরে পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে নিন। আঙুলের ফাঁক, নখের চারপাশ এবং হাতের পেছনের অংশও পরিষ্কার করুন। হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে অন্তত ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করতে পারেন। তবে হাত দৃশ্যত নোংরা হলে সাবান ও পানিই বেশি কার্যকর।

২. হাতল ও ছিটকিনি ধরার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন

ওয়াশরুমের দরজার হাতল, ছিটকিনি ও অন্যান্য স্পর্শযোগ্য জায়গায় জীবাণু থাকতে পারে। হাত ধোয়ার পরে এগুলি ধরতে হলে টিস্যু ব্যবহার করতে পারেন। তবে শুধু এই সতর্কতাই সংক্রমণ ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে অপ্রয়োজনে মুখ, চোখ বা নাক স্পর্শ করবেন না।

৩. কমোড ব্যবহারের আগে দেখে নিন

ওয়াশরুম ব্যবহারের আগে কমোডের অবস্থা দেখে নিন। নোংরা থাকলে সম্ভব হলে পরিষ্কার বিকল্প ওয়াশরুম ব্যবহার করুন বা রেলকর্মীদের জানান। প্রয়োজন হলে নিজের সঙ্গে রাখা উপযোগী জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কমোডে জীবাণুনাশক স্প্রে করলেই সব জীবাণু দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যবহারের পরে ফ্লাশ করুন এবং ওয়াশরুম পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন।

৪. ঋতুস্রাবের সময় বাড়তি সতর্কতা

ঋতুস্রাবের সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্যানিটারি প্যাড বা ট্যাম্পন সঙ্গে রাখুন। প্যাড বা ট্যাম্পন বদলানোর আগে ও পরে হাত পরিষ্কার করা জরুরি। ব্যবহৃত প্যাড বা ট্যাম্পন টিস্যু বা উপযুক্ত মোড়কে মুড়ে নির্দিষ্ট বর্জ্যপাত্রে ফেলুন। কমোডে ফেলবেন না। এতে নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ট্যাম্পন ব্যবহারের ক্ষেত্রে পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা বদলান।

৫. খাবার খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করুন

ট্রেনে সফরের সময়ে চা, নাশতা বা অন্যান্য খাবার খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন। সাবান ও পানি না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করতে পারেন। খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখুন এবং নিরাপদ পানীয় পান করুন।

৬. নখ কামড়ানো ও বার বার মুখে হাত দেওয়া এড়ান

অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই নখ কামড়ানো বা বার বার মুখে হাত দেওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। হাত পরিষ্কার না করে খাবারও মুখে তুলবেন না।

৭. পানি খাওয়া কমাবেন না, প্রস্রাবও চেপে রাখবেন না

ওয়াশরুমের অপরিচ্ছন্নতার ভয়ে জল খাওয়া কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করুন এবং প্রস্রাবের বেগ হলে অযথা দীর্ঘ ক্ষণ আটকে রাখবেন না। মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআই সাধারণত ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালিতে প্রবেশ করার কারণে হয়। অপরিচ্ছন্ন শৌচালয় ব্যবহার করলেই যে সংক্রমণ হবে, তা নয়। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

প্রস্রাবের সময়ে জ্বালা, বার বার প্রস্রাবের বেগ, তলপেটে ব্যথা বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জ্বর, কাঁপুনি বা পিঠের পাশে ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। ট্রেন সফরে সতর্ক থাকুন, তবে সংক্রমণের ভয়ে শরীরের স্বাভাবিক প্রয়োজন উপেক্ষা করবেন না।