গুরুগ্রাম থেকে অমৃতসর মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায়! নতুন পথে কমছে সময়

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসর ইতিহাস, ধর্মীয় স্থাপত্য এবং খাবারের জন্য পর্যটকদের কাছে পরিচিত। শহরের স্বর্ণমন্দির, জালিয়ানওয়ালাবাগ কিংবা ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের আটারি-ওয়াঘার সৌন্দর্যের কারণে অমৃতসর ভ্রমণের জন্য বেশ জনপ্রিয়। এবার সেই শহরে পৌঁছানো আরও সহজ হচ্ছে। ভারতের গুরুগ্রাম থেকে নতুন সড়কপথে অমৃতসর যেতে সময় লাগতে পারে মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টা।

‘লাইভমিন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে যাত্রার সময় অনেকটাই কমতে পারে। গুরুগ্রাম থেকে দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ে, কুন্ডলি-মানেসর-পালওয়াল (কেএমপি) এক্সপ্রেসওয়ে এবং আরবান এক্সটেনশন রোড-২ ব্যবহার করে দিল্লি-অমৃতসর-কাটরা এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে। সেখান থেকে পাঞ্জাবের দিকে এগিয়ে পৌঁছানো যাবে অমৃতসরে।

নতুন পথটি নাকোদর হয়ে অমৃতসরের দিকে যাওয়ার জন্য এক্সপ্রেসওয়ের নতুন অংশগুলোকে কাজে লাগায়। ফলে সোনিপত, পানিপথ ও আম্বালার মতো যানজটপ্রবণ এলাকার ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। তবে কোথা থেকে যাত্রা শুরু হচ্ছে, রাস্তার পরিস্থিতি এবং এক্সপ্রেসওয়ের কোন অংশ চালু রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করবে নির্দিষ্ট রুট।

এই পথে প্রায় চার থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় বাঁচতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে যানজট, রাস্তার অবস্থা এবং পথে বিরতির কারণে প্রকৃত যাত্রার সময় বাড়তে পারে। তাই রওনা হওয়ার আগে রুট ও রাস্তার হালনাগাদ তথ্য দেখে নেওয়া জরুরি।

অমৃতসরে পৌঁছে ঘুরে দেখতে পারেন শহরের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলো। স্বর্ণমন্দির বা শ্রী হরমন্দির সাহিব শিখ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। কাছেই রয়েছে জালিয়ানওয়ালাবাগ। ১৯১৯ সালের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে আটারি-ওয়াঘা সীমান্তেও যেতে পারেন। সেখানে সেনাদের কুচকাওয়াজ এবং পতাকা নামানোর অনুষ্ঠান দেখতে প্রতিদিন বহু পর্যটক ভিড় করেন। কেনাকাটার জন্য ঘুরে দেখতে পারেন হাল বাজার। পাঞ্জাবি জুতি, পোশাক, স্মারক ও স্থানীয় নানা পণ্য পাওয়া যায় এই বাজারে।

অমৃতসর ভ্রমণে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়াও জরুরি। গরম অমৃতসরি কুলচা, ছোলে, ঠান্ডা লস্যি এবং পাঞ্জাবের ঐতিহ্যবাহী খাবার চেখে দেখতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে যাঁরা অমৃতসর ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভারতীয় ভিসা, যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি আগেভাগে গুছিয়ে নেওয়া উচিত।