শুধু নতুন নতুন জায়গা দেখা মানেই ভ্রমণ নয়। এর সঙ্গে এমন কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা, যা সারা জীবন মনে থেকে যায়। কখনও সমুদ্রের জলে বিশাল তিমির পাশে সাঁতার কাটা, কখনওবা আফ্রিকার বিস্তীর্ণ প্রান্তরে হাজার হাজার বন্যপ্রাণীর দলবেঁধে চলা দেখা। বিশ্বভ্রমণে এমনই কিছু অসাধারণ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাইমি ইয়াকোফানো। সম্প্রতি এক ভিডিওতে নিজের ভ্রমণজীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
রাইমির মতে, জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা ছিল তানজানিয়ার সেরেঙ্গেটি জাতীয় উদ্যানে ‘গ্রেট মাইগ্রেশন’ বা বন্যপ্রাণীদের বার্ষিক মহাযাত্রা কাছ থেকে দেখা। প্রতি বছর সেরেঙ্গেটির বিস্তীর্ণ তৃণভূমি পেরিয়ে হাজার হাজার ওয়াইল্ডবিস্ট ও জেব্রা খাবার ও পানির সন্ধানে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পাড়ি দেয়। এত বিপুল সংখ্যক প্রাণীকে একসঙ্গে চলতে দেখে তার মনে হয়েছিল, যেন বাস্তব নয়, কোনও কল্পনার জগতে রয়েছেন।
তার আরেকটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ফরাসি পলিনেশিয়ার মুরিয়া দ্বীপে হাম্পব্যাক তিমির সঙ্গে সাঁতার কাটা। প্রতি বছর জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে সেখানে এই অভিজ্ঞতার সুযোগ মেলে। প্রকৃতির এত কাছাকাছি যাওয়ার মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলে মনে করেন রাইমি।
নিউজিল্যান্ডের ডাউটফুল সাউন্ডে রাতভর ক্রুজ ভ্রমণও তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। দেশটির এই দুর্গম ফিয়র্ড সম্পর্কে অনেক পর্যটকই তেমন জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। মিলফোর্ড সাউন্ডের তুলনায় এখানে পর্যটকের ভিড় কম। চারপাশের নিস্তব্ধতা আর প্রকৃতির শব্দহীন সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছিল।
ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জে গ্রীষ্মকালীন অয়ন উৎসবে যোগ দেওয়াও ছিল তার কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা। প্রাচীন পাথরের স্থাপনাগুলি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। একই দিনে প্যারিসের ‘ফেত দে লা মিউজিক’ বা সংগীত উৎসবেও যোগ দেন রাইমি। গ্রীষ্মকালীন অয়নের দিন আয়োজিত এই উৎসবে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সংগীতের আসর বসে। তার কথায়, গোটা শহর যেন এক বিশাল সংগীতমঞ্চে পরিণত হয়।
জাপানের তুলনামূলক কম পরিচিত কয়েকটি জায়গা সেনদাই, নাওশিমা ও নাগানো ঘুরে দেখাকেও বিশেষ অভিজ্ঞতা বলে মনে করেন তিনি। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে গিয়ে অন্য রকম জাপানকে চেনার সুযোগ পেয়েছিলেন সেখানে।
তবে রাইমির ভ্রমণতালিকায় নতুন সংযোজন হতে চলেছে অ্যান্টার্কটিকা। এই সফর সম্পূর্ণ হলে বিশ্বের সাতটি মহাদেশই ঘোরা হয়ে যাবে তার।