ওয়েলসের পাহাড়ে পাথরের মিনার, পথে পথে খনির ইতিহাস

পাহাড়ের গায়ে পরিত্যক্ত খনি, পাথরের তৈরি বিশাল কাঠামো, গভীর জলভরা গহ্বর আর পাহাড়ি নদীর কলকল শব্দ- প্রকৃতি ও ইতিহাসের এমন সংমিশ্রণ দেখতে হলে ঘুরে আসতে পারেন উত্তর ওয়েলসের স্নোডোনিয়া থেকে। ব্রিটেনের এই জাতীয় উদ্যানের বুক চিরে তৈরি হয়েছে ৮৩ মাইল দীর্ঘ ‘স্নোডোনিয়া স্লেট ট্রেল’। এক দিকে পাহাড় ও নদীর অপরূপ সৌন্দর্য, অন্য দিকে ওয়েলসের একসময়ের সমৃদ্ধ স্লেট শিল্পের ইতিহাস এই পথের আকর্ষণ দু’দিকেই।

দ্য গার্ডিয়ানে ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক ভ্রমণ প্রতিবেদনে লেখক কেভিন রাশবি এই পথের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁর যাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে পরিত্যক্ত স্লেটের খনি। একসময় শিল্পের কাজে ব্যবহৃত এই খনিগুলিতে এখন দেখা যায় সুউচ্চ পাথরের কাঠামো, সুড়ঙ্গ ও পুরনো রেলপথের চিহ্ন। দূর থেকে সেগুলিকে মায়া সভ্যতার মন্দিরের মতো দেখায়।

লেখকের যাত্রাপথে রয়েছে ডোরোথিয়া ও কামোরথিনের মতো পরিত্যক্ত খনি। একসময় এই অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ স্লেট উত্তোলন করা হতো। উনিশ শতকে শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছিল রেলপথ, জল নিষ্কাশনের যন্ত্র এবং খনিশ্রমিকদের বসতি। তবে এই শিল্পের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শ্রমিকদের কঠিন জীবন, দুর্ঘটনা এবং উন্নত জীবিকার সন্ধানে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কাহিনি।

এই পথে হাঁটতে হাঁটতে দেখা মেলে নদী গ্লাসলিনের তীর, ঘন সবুজে ঢাকা গিরিখাত এবং দুর্গম পাহাড়ি প্রান্তরের। স্নোডনের শৃঙ্গও পথের বিভিন্ন অংশ থেকে চোখে পড়ে। কোথাও নদীর জল পাথরের গা বেয়ে নেমে এসেছে, কোথাও আবার পুরনো খনির ধ্বংসাবশেষের পাশে জমে রয়েছে গাঢ় রঙের জল। প্রকৃতির নির্জনতা আর মানুষের ফেলে যাওয়া শিল্পের নিদর্শন মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক অন্য রকম ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

এই ট্রেকের পথে বেডজেলার্ট ও বেটউস-ই-কোডের মতো পাহাড়ি গ্রামেও থামার সুযোগ রয়েছে। ছোট ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও থাকার জায়গা দীর্ঘ পদযাত্রার মাঝে বিশ্রামের সুযোগ করে দেয়। তবে পাহাড়ি আবহাওয়া দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই দুর্গম পথে হাঁটার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া এবং উপযুক্ত পোশাক ও সরঞ্জাম সঙ্গে রাখা জরুরি।

স্নোডোনিয়া স্লেট ট্রেল সম্পূর্ণ করতে সাধারণত সাত দিনের একটি স্বনির্দেশিত হাঁটার প্যাকেজও পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছয় রাতের থাকা, সকালের নাশতা, লাগেজ পরিবহণ এবং পথনির্দেশিকাসহ এই প্যাকেজের খরচ জনপ্রতি ৮৯০ পাউন্ড থেকে শুরু। প্রকৃতি, ইতিহাস ও অ্যাডভেঞ্চার তিনের স্বাদ একসঙ্গে পেতে চাইলে ওয়েলসের এই পথ হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য।