ভারতের বুলেট ট্রেন প্রকল্প ঘিরে কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে। মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত হাইস্পিড রেল করিডরের পথে তৈরি হচ্ছে দেশটির প্রথম সমুদ্রতলের রেল সুড়ঙ্গ। প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ৭ কিলোমিটার অংশ যাবে থানে খাঁড়ির নীচ দিয়ে। ফলে ভবিষ্যতে এই পথে ট্রেনে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা হতে চলেছে বেশ অভিনব।
৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই সুড়ঙ্গ। এটি মুম্োইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্স (বিকেসি) থেকে মহারাষ্ট্রের থানের শিলফাটা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। সুড়ঙ্গ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ টানেল বোরিং মেশিন বা টিবিএম। প্রায় ১৬ কিলোমিটার অংশ খোঁড়া হচ্ছে এই যন্ত্রের সাহায্যে। দুর্গম পাহাড়ি পাথরের ভেতর দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরিতে কাজে লাগছে অস্ট্রিয়ার উন্নত প্রযুক্তিও।
মুম্বাইয়ের বিক্রোলি থেকে বিকেসির দিকে এবং ঘানসোলির কাছে সাভলি থেকে বিক্রোলির দিকে চলছে খননকাজ। সুড়ঙ্গের ভেতরে তৈরি হবে বুলেট ট্রেনের জন্য দুটি সমান্তরাল রেলপথ। ভূগর্ভ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ২৫ থেকে ৫৫ মিটার গভীরে তৈরি হচ্ছে এই পথ। ঘানসোলি ও শিলফাটার মধ্যবর্তী অংশের ভূতাত্ত্বিক গঠন ছিল নির্মাণকাজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই অংশের ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ খননে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়।
কবে চড়া যাবে বুলেট ট্রেনে?
দেশটির রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের বক্তব্য অনুযায়ী, মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের প্রথম অংশ আগামী বছর উদ্বোধনের লক্ষ্য রয়েছে। আগামী বছরের মে বা জুন মাসে ট্রেনের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে প্রকল্পের নকশা তৈরি, কোভিড অতিমারি এবং জমি অধিগ্রহণের সমস্যার কারণে কাজের সময়সীমা পিছিয়েছে।
এই করিডরে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২০ কিলোমিটার গতিতে ছুটবে বুলেট ট্রেন। মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদ পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৭ মিনিট। পথে থাকবে মোট ১২টি স্টেশন। সেগুলো হলো- মুম্বাইয়ের বিকেসি, থানে, বিরার, বোইসর, ভাপি, বিলিমোরা, সুরাত, ভরুচ, ভদোদরা, আনন্দ, আমদাবাদ এবং সবরমতী।
জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে এই হাইস্পিড রেল করিডর। প্রকল্পটি চালু হলে মুম্বাই ও আহমেদাবাদের মধ্যে যাতায়াত যেমন দ্রুত হবে, তেমনই ভারতের রেলযাত্রায় যুক্ত হবে এক নতুন অভিজ্ঞতা। সমুদ্রের নীচ দিয়ে ট্রেনে চলার সুযোগও হয়ে উঠতে পারে এই যাত্রার অন্যতম আকর্ষণ।