বারাণসীর যানজট এড়াতে রোপওয়ে, ৪৫ মিনিটের পথ মাত্র ১৫ মিনিটে পারি

বারাণসীর ব্যস্ত রাস্তায় যানজট পেরিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছনো বেশ সময়সাপেক্ষ। বিশেষ করে ক্যান্ট রেলস্টেশন থেকে শহরের প্রধান ঘাটগুলির কাছে গোদৌলিয়া চক পর্যন্ত যেতে গাড়িতে প্রায় ৪৫ মিনিট লেগে যায়। এই সমস্যা কমাতে ভারতের প্রথম গণপরিবহণ রোপওয়ে চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে শহরটি। পরিষেবা শুরু হলে একই পথ পেরোতে সময় লাগবে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ মিনিট।

চলতি বছরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পরিষেবা চালুর কথা রয়েছে। তার আগেই এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর রোপওয়েতে চড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে তিনি দেখিয়েছেন, কেমন হবে এই আকাশপথের যাত্রা। প্রতিটি কেবিনে একসঙ্গে বেশ কয়েক জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। কেবিনগুলির নকশাতেও রয়েছে বারাণসীর ঐতিহ্যের ছোঁয়া। কাশী বিশ্বনাথ মন্দির এবং শহরের ঘাটগুলির স্থাপত্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি হয়েছে সেগুলি।

রোপওয়েতে চড়লে নীচে দেখা যাবে শহরের ব্যস্ত রাস্তা, যানজটে আটকে থাকা গাড়ি, রেলস্টেশন এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। যে পথ সাধারণত গাড়িতে পেরোতে অনেকটা সময় লাগে, সেই পথই আকাশপথে দ্রুত অতিক্রম করা যাবে। ভিডিয়োটি দেখে নেটমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা। কেউ বারাণসীর বৃষ্টি ও সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন, কেউ আবার শহরের বাড়ির ছাদগুলির রং একরকম করার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেকে এই প্রকল্পকে যানজট কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে প্রশংসা করেছেন। তবে কারও মতে, বারাণসীকে কাছ থেকে চিনতে হলে পায়ে হেঁটে ঘোরার অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই।

প্রায় ৬৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে কাশী রোপওয়ে প্রকল্প। ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে চলবে প্রায় ২২০টি কেবল কার। প্রতিটি কেবিনে সর্বোচ্চ ১০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। রুটে মোট পাঁচটি স্টেশন থাকছে—বারাণসী ক্যান্ট, কাশী বিদ্যাপীঠ, রথযাত্রা, গির্জাঘর এবং গোদৌলিয়া চক।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সুইৎজারল্যান্ডের সংস্থা বারথোলেট মাশিনেনবাউ এজি এবং ভারতের বিশ্বসমুদ্র ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড কাজ করছে। পরিষেবা চালু হলে রেলস্টেশন থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পৌঁছনো অনেক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।