শালবনের বুকজুড়ে নীল জলের আলতাদিঘীতে প্রকৃতির মায়াবী হাতছানি

শহরের ব্যস্ততা আর কোলাহল পেছনে ফেলে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে নওগাঁর ধামইরহাটের আলতাদিঘী হতে পারে চমৎকার একটি ভ্রমণ গন্তব্য। বিশাল জলরাশি, চারপাশের সবুজ শালবন আর নীরব-নির্জন পরিবেশ, সব মিলিয়ে জায়গাটি প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে সহজেই জায়গা করে নেয়।

নওগাঁ জেলা সদর থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দূরে ধামইরহাট উপজেলায় অবস্থিত আলতাদিঘী। সড়কপথে যেকোনো যানবাহনে এখানে যাওয়া যায়।

শালবনের মাঝখানে থাকা আলতাদিঘীর আয়তন প্রায় ৪২ দশমিক ৮১ একর। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দিঘীটি প্রায় ১ হাজার ১১৩ গজ দীর্ঘ ও ২২৫ গজ প্রশস্ত। বিশাল এই জলাধারের চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।

আলতাদিঘীকে ঘিরে রয়েছে ঐতিহ্য ও লোককথাও। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, প্রজাদের পানির সংকট দূর করতে রাজা বিশ্বনাথের আমলে দিঘীটি খনন করা হয়েছিল। রানি কতদূর হাঁটবেন, আর কোথায় গিয়ে দিঘী খনন হবে, এমন একটি কিংবদন্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আলতাদিঘীর নামের ইতিহাস। তবে এটি মূলত লোকমুখে প্রচলিত কাহিনি।

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত হয়। বর্তমানে জাতীয় উদ্যানটির মোট আয়তন ২৬৪ দশমিক ১২ হেক্টর।

দিঘীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বিশাল জলরাশি আর শালবনের সবুজ মেলবন্ধন উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে সকাল কিংবা বিকালের নরম আলোয় আলতাদিঘীর পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও মনোমুগ্ধকর। প্রকৃতির মাঝে হাঁটা, ছবি তোলা কিংবা পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি হতে পারে আকর্ষণীয়।

তবে ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। দর্শনার্থীদের উচিত দিঘী ও বনাঞ্চলে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করা এবং স্থানীয় পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা।

নওগাঁর ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থানগুলোর তালিকায় আলতাদিঘী তাই শুধু একটি দিঘী নয়, এটি একই সঙ্গে প্রকৃতি, লোকঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য মিলনস্থল। ব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে চাইলে নওগাঁর আলতাদিঘী হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের ঠিকানা।