ফারুকী হত্যাকাণ্ড

কারাগারে ১২ সন্দেহভাজন, কয়েকজন ক্রসফায়ারে, তবুও খুনিরা অধরা







মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যার পর বিভিন্ন সময় সন্দেহভাজন হিসেবে জেএমবি, আনসারুল্লাহ ও হুজির ১৩ সদস্যসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল ১৬ জনকে। তাদের মধ্যে ১২ জন এখনও কারাগারে রয়েছেন।

জেএমবির ছয়জনকে এ মামলায় গ্রেফতারও দেখানো হয়েছে। সন্দেহভাজন কয়েকজন অন্য ঘটনায় ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তবুও খুনিরা অধরাই রয়ে গেছেন।

মাওলানা ফারুকীর বড় ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে গেলে তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, খুনিদের ধরতে পারলে তাদের জানানো হবে। কিন্তু দুই বছরেও এ মামলার খুনিরা গ্রেফতার হয়েছে কিনা জানাননি তদন্তে সংশ্লিষ্টরা।

মাওলানা ফারুকীর ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী বলেন, ব্লগার, লেখক ও প্রকাশকসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে জড়িত কত জঙ্গি, অপরাধী ও খুনি ধরা পড়ে, কেবল আমার বাবার খুনিরাই ধরা পড়েননা। এজন্য আমরা হতাশ।

খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান রেজা ফারুকী।

ফারুকী হত্যার বিচার দাবিতে ইসলামিক ফ্রন্টের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সেনা ২৫ আগস্ট থেকে চারদিনের কর্মসূচি পালন করছে। মাওলানা ফারুকী হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জঙ্গিবাদবিরোধী রোড মার্চ কমিটির সচিব ইমরান হুসাইন তুষার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মাওলানা ফারুকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনি ও মদদদাতাদের গ্রেফতার করা হলে গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার ঘটনা ঘটতো না। দলের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার আসামিদেরও আজ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। মাওলানা ফারুকী হত্যাকাণ্ডে যারা মদদ দিয়েছেন, তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে মাওলানা ফারুকীর খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নেওয়ার আহ্বান জানান।

ফারুকী হত্যা মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ইন্সপেক্টর আরশেদ আলী মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতি ও হোসেনি দালানে হামলার ঘটনা যারা ঘটিয়েছেন, তাদের অনেকেই ফারুকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। মাহফুজসহ আহলে হাদীস গ্রুপের কয়েকজন জঙ্গি মতাদর্শগত কারণে তাকে হত্যা করেছে বলেও জানতে পেরেছেন তারা। তিনি জানান, তবে ফারুকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত কয়েকজন বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন; যারা হোসেনি দালান ও পুলিশ হত্যা মামলারও আসামিও ছিলেন। এছাড়া আরও কয়েকটি বিষয়ে জটিলতা থাকায় তদন্ত এখনও শেষ করা যায়নি।

খুব শিগগিরই তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা আরশেদ আলী মণ্ডল।

মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন চ্যানেল আইয়ের কাফেলা অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও হাইকোর্ট মাজার মসজিদের খতিব মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। হত্যাকাণ্ডের একদিন পর ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আট/নয় জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে। মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তরের পর তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ইন্সপেক্টর জুলহাস উদ্দিন আকন্দকে। গত বছরের শেষের দিকে মামলাটি ডিবি থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। সেখানে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডির ইন্সপেক্টর আরশেদ আলী মণ্ডলকে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, ফারুকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বিভিন্ন সময় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে পরিচিত শায়খ মোযাফফর বিন মুহসিনসহ আনসারুল্লাহর তিনজন, জেএমবির সাতজন ও হরকাতুল জিহাদের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে উস্কানিদাতা হিসেবে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়, শায়খ মোযাফফর বিন মুহসিনকে। এছাড়া জেএমবি সদস্য তারিকুল ইসলাম মিঠু ওরফে তারেক, আবদুল গাফফার, আলেক বেপারি, মিন্টু প্রধান, আলেক বেপারীর ভায়রা মোস্তফা আহমেদ রাসেল ও খোরশেদ আলমকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। মুহসিন ছাড়া অন্য সবাই কারাগারে আছেন বলেন জানান তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া থেকে মাহমুদা বেগম ও শরীফুল ইসলাম এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে মো. ইউসুফ নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু তারা ছিলেন ফারুকীর ভক্ত। তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতার কোনও তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

/জেইউ/এবি/

আরও পড়ুন

মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীর আদ্যোপান্ত

অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭