মামলার বাদী পক্ষের কৌঁসুলি ও জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার রিংকি বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বছর ২৪ আগস্ট কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের ফুটওভার ব্রিজের ওপর রিশাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ওবায়দুল। রিশাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মারা যায় সে। রিশা উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো। বাবা রমজান হোসেন ও মা তানিয়া হোসেনের সঙ্গে পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার এলাকায় থাকতো। রিশা হত্যার ঘটনায় মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে ২৫ আগস্ট রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ধারায় এবং পেনাল কোডে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করে ওবায়দুল খানকে (২৯) আসামি করা হয়। আসামি ওবায়দুল ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সের বৈশাখী টেইলার্সের কাটিং মাস্টার ছিল।
মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় ৬ মাস আগে মায়ের সঙ্গে ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সের বৈশাখী টেইলার্সে যায় রিশা। সেখানে একটি ড্রেস সেলাই করতে দেয় সে। পরে দোকানের রিসিট থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে টেইলার্সের কাটিং মাস্টার ওবায়দুল খান রিশাকে ফোনে উত্ত্যক্ত করতো। পরে ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হলে ওবায়দুল স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রিশাকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে ওই টেইলার্সে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ওবায়েদুল দুই মাস আগে চাকরি ছেড়ে সেখান থেকে চলে গেছে।
গত বছর ৩১ আগস্ট সকালে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় বাজার থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ওবায়দুলকে গ্রেফতার করে ঢাকায় আনে পুলিশ। ওবায়দুলের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে। পরের দিন তাঁর ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডের প্রথম দিন ওবায়দুল খান রিশাকে ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার করেন।
গত নভেম্বরে আসামি ওবায়দুল খানকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আলী হোসেন।
/এফএস/
আরও পড়ুন-