জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলেম ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান আইজিপির

কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভায় আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ও অন্যরা (ছবি: সংগৃহীত)পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ধর্মের দোহাই দিয়ে জঙ্গিবাদ যেন না ঢোকে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমরা চাই, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসুক আলেম ও সুশীল সমাজ।’ মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় মুন্সীগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এখানে প্রথম অতিথি ছিলেন আইজিপি।

এ কে এম শহীদুল হক মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশকে অস্থির করে তুলেছে। তার ভাষ্য, ‘এরা স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। ৪৫টি জঙ্গি আস্তানায় হানা দিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূলে কাজ করেছে পুলিশ। এটা বিশ্বে রোলমডেল।’

মাদকের বিরুদ্ধে গোটা জাতির এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন আইজিপি। এ প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘এজন্য পরিবারকে তৈরি করতে হবে দুর্গ। তা না হলে মাদকের বেড়াজাল থেকে বের হওয়া সমস্যা হয়ে পড়বে।’

কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভায় বক্তব্য রাখছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক (ছবি: সংগৃহীত)আইজিপির কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ৯ বছর যে উন্নয়ন করেছেন তা বিশ্ববাসী, বিশ্বব্যাংক ও গোটা জাতি জানে। তিনি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছেন। কোনও পুলিশ সদস্যই ১৬ ঘণ্টার নিচে কাজ করেন না। বিভিন্ন কারণে পুলিশ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনে পাঁচ কোটি টাকা অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী।’

বিশেষ অবদান রাখায় জেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি প্রবীর কুমার গাঙ্গুলি ও পুলিশের উপ-পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেনকে সম্মাননা তুলে দেন আইজিপি।

এর আগে শ্রীনগর উপজেলা সদরের পুরনো থানা এলাকায় পুলিশ প্লাজা উদ্বোধন করেন আইজিপি। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক আইজিপি আওলাদ হোসেন কাঞ্চন, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা, উপজেলা চেয়ারম্যান মমিন আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

দুটি পুলিশ প্লাজার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক (ছবি: সংগৃহীত)এটি জেলার প্রথম পুলিশ প্লাজা। প্রায় দেড় একর জমিতে আট তলা ভবনটির ছয় তলা পর্যন্ত রয়েছে দোকান। প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, এক হাজার দোকান হবে। সপ্তম তলায় থাকবে ফুডকোর্ট আর অষ্টম তলায় হবে সিনেপ্লেক্স। বাংলাদেশ কল্যাণ ট্রাস্ট এই পুলিশ প্লাজা বাস্তবায়ন করছে।

এছাড়া শ্রীনগর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বগুড়া আর কুমিল্লায় আরও দুটি পুলিশ প্লাজার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন আইজিপি।