আদালতের আদেশ সত্ত্বেও বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) বহুতল ভবন ভাঙতে বারবার সময় না চাওয়ার শর্ত সংক্রান্ত মুচলেকার ওপর আগামীকাল সোমবার (২ এপ্রিল) আদেশের দিন ধার্য রয়েছে। ওইদিন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আদেশ দেবেন।
শুনানিতে আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়ে মুচলেকা দিয়েছেন। তখন আদালত বলেন, তাহলে বোর্ড অব ডাইরেক্টররা আর সময় চাইবে না তো?’
জবাবে আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘আর সময় চাইবে না। তখন আদালত বলেন, যখন ছয় মাস পরে ডাইরেক্টর পরিবর্তন হবে তখন নতুন ডাইরেক্টর এসে সময় চাইলে কি করবেন।’ এরপর আদালত বিজিএমইএ’র শেষ সময় চাওয়ার শর্ত সংক্রান্ত মুচলেকাটি পুনরায় সংশোধন করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালত, মুচলেকার প্রেক্ষিতে দেওয়া নির্দিষ্ট সময় পর আদালতের আদেশ পালন না করা হলে এর জন্য বোর্ড অব ডাইরেক্টরদের সবাই এজন্য দায়ী থাকবেন। একইসঙ্গে ভবন ভাঙতে রাজউককে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে বলেন।
এর আগে ২৭ মার্চ বিজিএমইএ’র আবেদনের ওপর শুনানি শেষ করেন আপিল বিভাগ। শুনানিতে আদালত ভবন ভাঙতে বারবার সময় না চাওয়ার শর্তে একটি মুচলেকা জমা দিতে নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে আদালতে ২৮ মার্চ মুচলেকা জমা দেয় বিজিএমইএ।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৫ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজ করে দেন। তখন ভবন ভাঙতে কত দিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আবেদন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেন।
ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল বিজিএমইএ’র ভবনটি ভাঙতে এর কর্তৃপক্ষকে সাত মাস সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। বিজিএমইএ’র আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সময় মঞ্জুর করে এক আদেশে বলেছিলেন, ‘এটাই শেষ সুযোগ। আর সময় দেওয়া হবে না।’ কিন্তু এরপরও বিজিএমইএ’র আরেক আবেদনের প্রেক্ষিতে ভবন ভাঙতে তাদের পুনরায় ছয় মাস সময় দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর আদালত এ আদেশ দেন। আদালতের ওই সময় মঞ্জুরের পর চলতি বছরের ২৫ মার্চ পুনরায় ১ বছর সময় চেয়ে আবেদন করে ভবন কর্তৃপক্ষ। সেই আবেদনের বিষয়ে আগামীকাল সোমবার (২ এপ্রিল) আপিল বিভাগ আদেশ দেবেন।