মৌলভীবাজারের ১৯টি বালুমহালের লিজ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়

হাইকোর্টমৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ১৯টি সিলিকা বালুমহালের লিজ অবৈধবলে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ও পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ ছাড়া কোনও বালুমহাল লিজ প্রদান না করতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩ জুলাই) বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ কবীর।

এর আগে মৌলভীবাজার জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়া সিলিকাবালু সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এর মধ্যে ১৯টি বালুমহালে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। তবে ইজারা প্রদানের আগে কোনও পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) করা হয়নি এবং ইজারা গ্রহিতারাও কোনও পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) দাখিল করেনি।

অথচ খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এর বিধান মতে সিলিকাবালু একটি খনিজ সম্পদ এবং কোনও খনিজ সম্পদ উত্তোলন বা আহরণের আগে অবশ্যই পরিবেশ সংরক্ষণের বিধি বিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করার কথা।

পরে ওই এলাকাগুলোর পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা জনস্বার্থে ২০১৬ সালের ২১ মার্চ হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে। সেই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি ওই ১৯ বালুমহলে সিলিকা বালু উত্তোলনে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩ জুলাই) সেই ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন।