পরিচয় গোপন করে বাসা ভাড়া নিয়েছিল সুজন ও সুমন

বিধ্বস্ত জঙ্গি আস্তানাপরিচয় গোপন করে বসিলার মেট্রো হাউজিংয়ের ওই বাসাটি ভাড়াটি নিয়েছিল দু’জন। তারা একে অপরকে সুজন ও সুমন নামে ডাকতো। দু’জনের মধ্যে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী এবং একজন ভ্যানচালক পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন বাড়িটির কেয়ারটেকার সোহাগ। র‍্যাবের এডিজি (অপারেশন) কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম একথা জানান।

সোহাগের বরাত দিয়ে তিনি জানান, দেড়মাস আগে ১৫০০ টাকায় বাসা ভাড়া নেয় সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি।  ব্যাচেলর ভাড়া দিতে না চাইলেও নিজেদেরকে বিবাহিত বলে জানায় তারা। দু’জনই ২-১ দিনের মধ্যে স্ত্রী  নিয়ে আসবেন বলে জানায়। দেড়মাস আগে বাসা ভাড়া নিলেও তারা কখনোই একটানা থাকেননি।  স্ত্রীদেরকেও আনেননি কখনও।

তিনি আরও জানান, তারা মাঝে মধ্যে ওই বাসায় আসতো এবং দুই-একদিন করে থাকতো। প্রথমবারের মতো গত ৩-৪ দিন ধরে একটানা তারা দু’জন একসঙ্গে থাকছিল। বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় নিয়ম অনুযায়ী ভাড়াটিয়াদের কোনও তথ্য তারা দেয়নি।

কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তাদের আসল পরিচয় এবং পেশা কী ছিল আমরা তা জানার চেষ্টা করছি।’

প্রসঙ্গত, জঙ্গিদের অবস্থানের খবর পাওয়ার পর রবিবার রাত ৩টার দিকে মেট্রো হাউজিংয়ে ওই টিনশেড বাসাটি ঘিরে ফেলেন র‌্যাব-২ এর সদস্যরা। সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকালে অভিযান শুরুর পরপরই ওই বাসার ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। সকাল ৯টার পর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে সঙ্গে নিয়ে র‌্যাবের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা ওই বাড়িতে ঢোকে। ওই সময়ও সেখান থেকে কয়েক দফা গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এরপর বেলা ১১টার বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি বাড়িটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। পরে ফায়ার সার্ভির এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সংক্রান্ত খবর: 

জঙ্গি আস্তানায় অন্তত দু’জন মারা গেছে: বেনজীর

 

র‍্যাবের অভিযানের মধ্যেই জ্বলে উঠলো ‘জঙ্গি আস্তানা’

‘জঙ্গি আস্তানায়’ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট

বাসাটি মাস দেড়েক আগে ভাড়া নেয় দু'জন

বসিলায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে এক বাসা ঘিরে রেখেছে র‌্যাব