প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মচারী আইন অনুযায়ী ফৌজধারি অপরাধের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে যে-কোনও সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতারে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ আইন কার্যকর হবে বলে গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
আসকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১ অক্টোবর (২০১৯) থেকে কার্যকর হতে যাওয়া সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ওই কর্মচারীকে গ্রেফতার করতে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। আসক মনে করে, আইনের এ ধারাটি বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যেখানে কোনও বিভাজন বা বৈষম্য ছাড়াই প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জনপ্রশাসনের কাজে গতি আনার উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে এ আইনটি প্রণয়ন করার কথা বলা হলেও আইন প্রণয়নের শুরু থেকেই নাগরিক সংগঠনগুলো এর বিরোধিতা করে আসছে। আসকের পক্ষ থেকেও বিবৃতির মাধ্যমে আইনটির বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এরপরও নাগরিক সমাজের অভিমতকে উপেক্ষা করে সংসদে আইনটি পাস করা হয়।
আসকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে প্রায়ই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর-অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটে আইনটিতে সন্নিবেশিত এ ধরনের সুযোগ সরকারি চাকরিজীবীদের দায়মুক্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হতে পারে। আইনটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার জন্য আবারও দাবি জানায় আসক।