এসবি রিপোর্ট গোপন করে ভারতীয়কে দেওয়া হয় বাংলাদেশি পাসপোর্ট

দুদক

ভারতীয় নাগরিক হাফিজ আহমেদ। বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন রাজশাহী পাসপোর্ট অফিসে। এসবি রিপোর্ট (পুলিশ প্রতিবেদন) হাফিজ আহমেদের বিপক্ষে গেলে তা গোপন করে তাকে পাসপোর্ট দেন রাজশাহী পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা। আর এই পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে চলে গেছেন হাফিজ আহমেদ। পাসপোর্ট দেওয়ার যাবতীয় তথ্যও গোপন করেছিলেন সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা।

তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ভারতীয়কে পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ২০১৭ সালে রাজশাহী পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত থাকা সাতজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে চলে যাওয়া ভারতীয়সহ এই আটজনকে আসামি করে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিক হাফিজ আহমেদকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়। অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য হাফিজের বিপক্ষে আসা পুলিশ প্রতিবেদন গোপন করে পাসপোর্ট তৈরি, ইস্যু ও বিতরণসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মূল রেকর্ডপত্র গায়েব করা হয়।

দুদক থেকে অনুমোদন হওয়া মামলার আসামিরা হলেন- ভারতীয় নাগরিক হাফিজ আহমেদ, রাজশাহী বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের সাবেক এমএলএসএস (বর্তমানে আগারগাঁও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরে অফিস সহায়ক থাকাকালীন সাময়িক বরখাস্ত), রঞ্জু লাল সরকার, সাবেক অফিস সহায়ক হুমায়ন কবির, সাবেক উচ্চমান সহকারী (বর্তমানে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের সুপারিনটেনডেন্ট) দেলোয়ার হোসেন, সাবেক ডাটা এন্ট্রি/কন্ট্রোল অপারেটর (বর্তমানে জয়পুরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত ) আলমাস উদ্দিন, সাবেক সহকারী পরিচালক (বর্তমানে যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত) মো. আবজাউল আলম, সাবেক দফতরি (বর্তমানে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে রেকর্ড কিপার) মো. ইব্রাহিম হোসেন, রাজশাহী বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আব্দুল ওয়াদুদ।