সোমবার (৯ নভেম্বর) রাতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।
এর আগে আজ সোমবার বিকালে জরিমানার আদেশদানকারী হাইকোর্ট বেঞ্চ ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের কাছে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের প্রতিবাদের বিষয়ে জানতে চান। তবে সেখানে কোন ফলপ্রসু সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তারা।
জানা গেছে, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে দুই আইনজীবীকে জরিমানা করায় অধিকাংশ আইনজীবীরা দিনভর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেক আইনজীবী হাইকোর্টের সেই বেঞ্চটিকে বয়কটেরও সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে সাধারণ আইনজীবীদের প্রতিবাদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেন।
এই দিন সকালে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে একটি বাক্সে ১ টাকা করে জমা দেন সাধারণ আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় আইনজীবীরা এই প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
প্রসঙ্গত, গত ৮ নভেম্বর আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ এক বিচারপতির ছেলে ব্যারিস্টার জুম্মন সিদ্দিকীকে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের গেজেট প্রকাশ বৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানকে একশত টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। এই ধরনের রিট করে আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য এই জরিমানা করা হয়। বিচারপতি গোবিন্দ্র চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মাদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
ওই রিট মামলার শুনানির এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের বিরুদ্ধে আদালত অবমানার রুলও জারি করেন আদালত।
এর আগে ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর এক বিচারপতির ছেলেকে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে জারি করা গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে গেজেট প্রকাশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এরপর ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির পরীক্ষায় বারবার অনুত্তীর্ণ হওয়ার পরও হাইকোর্টের এক বিচারপতির ছেলেকে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়। আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও ইশরাত হাসান বাদী হয়ে এই রিট দায়ের করেছিলেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় কয়েকবার অংশ নিয়েও কৃতকার্য হতে পারেনি হাইকোর্টের এক বিচারপতির ছেলে মো. জুম্মান সিদ্দিকী। অথচ গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর জুম্মান সিদ্দিকীকে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে গত বছরের ৩১ অক্টোবর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
তাই রিটে ওই গেজেট এবং ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডারের ২১(১)(খ) ও ৩০(৩) ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। জুম্মান সিদ্দিকীসহ বার কাউন্সিলের সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছিল।