বিমানবন্দরে ফেলে যাওয়া শিশুটিকে তেজঁগাওয়ে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। শিশুটিকে দত্তক নিতে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরইমধ্যে কেউ কেউ বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
শুক্রবার (২ এপ্রিল) সকালে সৌদি আরবফেরত এক নারী শিশুটিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেলে ফেলে যান।
বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বিকাল পর্যন্ত শিশুটি আমাদের হেফাজতে ছিল। কিন্তু তাকে নিতে পরিবারের কেউ আসেনি। পরবর্তীতে তাকে তেজঁগাওয়ে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। শিশুটি সেখানেই থাকবে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার তার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’
অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘অনেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা শিশুটিকে দত্তক নিতে চান। আমরা তো চাইলেই কাউকে দত্তক দিতে পারি না। আদালতের মাধ্যমে কেউ আবেদন করলে আদালত পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত দেবেন।’
তিনি জানান, শিশুটিকে সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. আমিনুল ইসলাম হিমেল শিশুটি সম্পর্কে বলেন, ‘বাচ্চাটি সুস্থ আছে। তার হালকা ঠান্ডাকাশি আছে। তবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার প্রয়োজন নেই। আমরা বেশকিছু পরীক্ষা করতে দিয়েছি। সেগুলোর রিপোর্ট পেলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। তবে সে বেশ স্বাভাবিক আছে।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২ এপ্রিল) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরে কাঁদছিলো এই শিশু।তখন তার আশেপাশে কেউ ছিল না। পরে দুগ্ধপোষ্য এই শিশুটিকে উদ্ধার করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করাসহ অনুসন্ধান করে পুলিশ জানতে পারে, সৌদি আরব থেকে এক নারী যাত্রী শিশুটিকে বিমানবন্দরে ফেলে গেছেন। এরপর শিশুটিকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তার পরিবারের অনুসন্ধান চালাচ্ছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় (২ এপ্রিল) সৌদি আরব থেকে এক নারী বাংলাদেশে আসেন। ৫ নম্বর বেল্ট থেকে মালামাল সংগ্রহ করেন তিনি। তার সঙ্গে একটি শিশু ছিল। তিনি সকাল পর্যন্ত বেল্ট এরিয়ায় থাকেন। সকাল ৮টার দিকে সেই নারী বাচ্চাটিকে বিমানবন্দরে রেখে চলে যান। পরবর্তীতে এই শিশুটি কান্না করছিল, আমরা তাকে উদ্ধার করি। তাকে দুধ পান করানো ব্যবস্থা করা হয়। শিশুটির বয়স আনুমানিক ৭-৮ মাস হবে। বিমানবন্দরে আসমা আক্তার নামে একজন যাত্রীকে পাওয়া যায়, যিনি শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে আসা নারীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। আসমা আমাদের জানিয়েছেন, ওই নারীর সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখন সেই নারী আসমাকে জানিয়েছিল যে, সৌদিতে তার বিয়ে হয়। শিশুটির জন্মের পর স্বামীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এ কারণে তিনি দোটানায় আছেন যে, শিশুটিকে নিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে যাবে কিনা।
আরও পড়ুন: