পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় মুসা ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সোমবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আরমানিটোলায় অগ্নিকাণ্ডে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি মোস্তাফিজুর রহমান ও তিন নম্বর আসামি মোহাম্মদ মোস্তফাকে ঢাকা ও বগুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) পুরান ঢাকার আরমানিটোলা মুসাম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় বংশাল থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেন। মুসা ম্যানশনের মালিক মোস্তফাসহ আট জনের নামে এই মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ১৫-২০ জনকে। মামলাটি করেন বংশাল থানার এসআই মোহাম্মদ আলী শিকদার।
মামলার আসামিরা হলেন- মোস্তাক আহমেদ চিশতি, মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ মোস্তফা, গাফফার, সাইদ, ফিরোজ, তারেক ও বাপ্পী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মুসা ম্যানশনের মালিক মোস্তফা আহম্মেদসহ অন্যান্য কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা ওই ভনের নিচতলা দাহ্য পদার্থ এবং কেমিক্যাল সংরক্ষণের জন্য দোকান/গোডাউন হিসেবে তাচ্ছিল্যভাবে ব্যবহার করে আসছিল। কেমিক্যালের দোকান/গোডাউনের আগুন লাগার ফলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে দগ্ধ হয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। ওই বাড়িতে বসবাসরত আবাসিক ভাড়াটিয়াদের বিভিন্ন আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে ও নষ্ট হয়ে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আসামিরা মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে জেনেও অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য আবাসিক ভবনে দাহ্য পদার্থ ও কেমিক্যাল সংরক্ষণের জন্য দোকান/গোডাউন ব্যবহার করে পেনাল কোড আইনের ৩০৪-ক/৩৩৭/৪২৭ ধারায় অপরাধ করেছে।
আরও পড়ুন-
আরমানিটোলায় আগুনের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু
জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আরমানিটোলার সেই নবদম্পতি
আরমানিটোলায় আগুনের ঘটনায় করা মামলাটি তদন্তের নির্দেশ
‘আগুনের মধ্যেই বসবাস করে আসছিলেন ওই ভবনের বাসিন্দারা’