পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষকে দুবাইয়ে পাচারকারী নাঈম গ্রেফতার

গত সাত বছরে ৫ শতাধিক নারী-পুরুষকে দুবাইয়ে পাচার করেছেন নাঈম খান লোটাস নামে এক যুবক। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) আরও সাত সহযোগীসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। আজ শনিবার রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাকিব হোসেন।

তিনি জানানা, রাজধানীর তুরাগ ও উত্তরা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কসবা এলাকা থেকে মানবপাচার চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাঈম খান ওরফে লোটাস ছাড়াও গ্রেফতারকৃতরা অন্যরা হলো—  নূরে আলম শাহরিয়ার, রিমন সরকার, গোলাম মোস্তফা, বদরুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ সোহেল ও মোহাম্মদ হাবিব।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৪টি পাসপোর্ট, ১৪টি নকল বিএমইটি কার্ড, একটি সিপিইউ, একটি প্রিন্টার, একটি স্ক্যানার, পাঁচটি মোবাইল, পাঁচটি নকল ও একটি চেক বই উদ্ধার করা হয় বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাকিব হোসেন বলেন, দুবাই শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের চাহিদা থাকায় দুবাইয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্রমণ ভিসায় দুবাই অবস্থানকারীদের ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে কাজের বৈধতা দেয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রেফতারকৃত নাঈম খান মানবপাচারের জড়িয়ে পড়ে। সে দুবাই এবং বাংলাদেশে তার পরিচিত লোকজনদের মাধ্যমে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখাতো লোকজনদের। যারা তাদের প্রস্তাবে রাজি হতো তাদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের ভ্রমণ ভিসা দিয়ে দুবাই নিয়ে যেতো। পরবর্তীতে ভ্রমণ ভিসায় যাওয়ার পর কাজের সুযোগ না পেয়ে অধিকাংশই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে গ্রেফতারকৃতরা

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই চক্রটি জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’র (বিএমইটি) স্মার্ট কার্ড জালিয়াতির অন্যতম হোতা। এই চক্রের গ্রেফতারকৃত হাবিব এবং খোরশেদ বিএমইটি কার্ড জালিয়াতির সাথে জড়িত, নকল বিএমইটি কার্ড তৈরি করতো তারা। প্রতিটি বিএমইটি কার্ড করার জন্য নেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার টাকা করে। প্রকৃত বিএমইটি কার্ড স্ক্যান করে হাবিব নিজেই গ্রাফিক্সের কাজ করে, বিদেশ গমনেচ্ছুদের পাসপোর্টে দেওয়া তথ্য কার্ডের পেছনে লিপিবদ্ধ করতো এবং গ্রেফতারকৃত বদরুলের নির্দেশমতো রিক্রুটিং লাইসেন্সের নম্বর বসিয়ে দিতো।