ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মেঘলা চৌধুরী ইলমাকে হত্যার অভিযোগে বনানী থানায় দায়ের করা মামলায় স্বামী ইফতেখার আবেদীনের ফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিবের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের এই আদেশ দেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, এদিন বনানী থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন ৩ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে ফের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
এর আগে গত বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর বিকাল চারটার দিকে রাজধানীর বনানীতে স্বামীর বাসায় মেঘলা চৌধুরী ইলমার মারা যান। মেঘলাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। মেঘলার পরিবার এটিকে হত্যা বলে দাবি করে। অপরদিকে মেঘলার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
জানা যায়, মেঘলা চৌধুরী ইলমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী। তার স্বামী ইফতেখার আবেদিন কানাডা প্রবাসী।
মেঘলার সহপাঠী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মেঘলার বিয়ে হয় কানাডা প্রবাসী ছেলের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই তাকে অনেক বাধ্যবাধকতার মধ্যে রাখা হতো। তার কোনও মোবাইল ছিল না। সে পুরো আউট অব নেটওয়ার্ক ছিল। ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে আসতো শুধু। বিয়ের আগে আমাদের সঙ্গে অনেক আড্ডা দিতো। কিন্তু বিয়ের পর তাকে পাওয়া যেতো না। মোটকথা তাকে অনেক মানসিক নির্যাতনের মধ্যে রাখা হতো।’
স্বামীর নির্যাতনে মেঘলার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘গত ১১ ডিসেম্বর তার স্বামী ইফতেখার দেশে আসেন। তারপর তাকে এমনভাবে নির্যাতন করা হয় যে, সে মারা যায়। তার শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি, তা মোটেও আত্মহত্যার নয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে। মেঘলাকে কয়েকদিন ধরে নির্যাতন করা হয় এবং তাকে খুন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে— মেঘলার মা’ও আমাদের এমনটি জানিয়েছেন।’
এ বিষয়ে বনানী থানার ওসি নূরে আজম মিয়া বলেন, ‘ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের জেরে মেঘলাকে হত্যা করা হতে পারে। ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। আইনি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই ছাত্রীর পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’