পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে মঙ্গলবার দুপুরে রাজবারবাগ পুলিশ লাইনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে দেশের সব পুলিশ সুপার ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের একান্ত বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনীকে অধিদফতর না রেখে পূর্ণ দফতর অর্থাৎ আলাদা বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন সারাদেশ থেকে আসা পুলিশ কর্মকর্তারা।
তারা বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হচ্ছে পুলিশ। আলাদা মন্ত্রণালয় না করলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশকে আলাদা বিভাগ হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। পুলিশ বিভাগের জন্য আলাদা সচিব থাকবেন। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে ভেঙ্গে যেভাবে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে মন্ত্রণালয় করা হয়েছে একইভাবে পুলিশকেও আলাদা করা যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনেও অনেকগুলো আলাদা বিভাগ রয়েছে। যেগুলোর আলাদা সচিব ও মন্ত্রী রয়েছেন।
এছাড়া প্রিজন ভ্যানসহ পুলিশের সব পর্যায়ে যানবাহন স্বল্পতা, অপারেশনাল ও আর্থিক সক্ষমতা এবং আবাসন সঙ্কটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন বৈঠকে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান পুলিশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করতে চান না। কেউ করলেও সেটা পুলিশ গোপন করার চেষ্টা করে। তার এ বক্তব্যের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, এটা ঠিক নয়। পুলিশের বিরুদ্ধেও সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন, এমনকি মামলাও করেন।
এ প্রসঙ্গে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোখলেছুর রহমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি আমাদের অভিভাবক। ভূল-ত্রুটি থাকতেই পারে। সেটা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার তার বক্তব্যে বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উত্থাপিত হলে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আর ঢাকায় হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটি গঠন করে পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ তদন্ত করা হয়। যেটা অন্য কোনও ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে করা হয় না।
বিপ্লব কুমার বলেন, দেশের ২৯টি ক্যাডার সার্ভিস রয়েছে। পুলিশ ছাড়া আর কোনও ক্যাডার সার্ভিসের ক্ষেত্রে এ নিয়ম নেই। পুলিশকে শৃঙ্খলিত করার জন্যই এ নিয়ম করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া তার বক্তব্যে বলেন, র্যাব ঝুঁকি ভাতা পেলেও পুলিশকে সেই ঝুঁকিভাতা দেওয়া হয় না। পুলিশের সব সদস্যকে ঝুঁকি ভাতা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, র্যাবকেও ঝুঁকি ভাতা দেওয়া হয় না। অতিরিক্ত যেটা দেওয়া হয় সেটা সম্মানি ভাতা।
প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ট্র্যাকসহ সন্দেহভাজনদের টেলিফোন মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। দায়িত্বরত অবস্থায় মারা গেলে সেই পুলিশ সদস্যের পরিবারকে পরবর্তী ১৫ বছর বেতন ও রেশন সুবিধাসহ সকল সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের আরেকজন ডিআইজি।
/এফএস/আপ-এনএস/